সহজে ঘুমিয়ে পড়ার এবং সকালে ফ্রেশ থাকার সেরা প্রাকৃতিক উপায়গুলি আপনি এই পোস্টের
মাধ্যমে জানতে পারবেন। সম্পূর্ণ উপায় গুলো জানতে হলে পুরো পোস্টটি পড়তে থাকুন।
পোস্ট সূচীপত্রঃ প্রাকৃতিক উপায়ে ঘুম আসার উপায়
প্রাকৃতিক উপায়ে ঘুম আসার উপায়
প্রাকৃতিক উপায়ে ঘুম আসার উপায় ঘুমের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো আপনাকে একটি
নির্দষ্ট রুটিন বা টাইম মেনে চলতে হবে। প্রতি দিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও একই
সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা। এ ভাবে ঘুমালে আমাদের শরীর ভেতর থেকে ঠিক ভাবে
কাজ করে, তাই আমাদের উচিৎ ছুটির দিন হলেও এ রকম অভ্যাস করে নিতে হবে। মনে
রাখবেন আপনি যখন ঘুমাতে যাবেন তার এক ঘন্টা আগে থেকে মেবাইল, লেপটপ কম্পিউটার
বা টিভি দেখা থেকে বিরত থাকুন। কারণ এসবের নীল আলো মানুষের ঘমের হরমোন তৈরি হতে
বাধা সৃষ্টি করে। তার বদলে আপনি বই পড়তে পারেন।
আর ভালো ঘুমের জন্য ঘরটাকে অন্ধকার ও ঠান্ডা দরকার তাই ঘুমানোর আগে অবশ্যই লাইট
বন্ধ করে ঘুমাবেন। এতে আপনার ঘুম অনেক ভালো হবে। আর আপনি রাতে শান্তির ঘুম
ঘুমাতে হলে আপনার খাদ্য অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন করতে হবে। ঘুমানোর আগে খুব বেশি
ও বেশি মসলাদার খাবার এরিয়ে চলুন। কারণ এতে আপনার হজমের সমস্যা হতে পরে, আর
হজমে সমস্যা হলে আপনার ঘুম ভেঙ্গে যেতে পারে। ভালো ঘুমের জন্য বিভিন্ন রকমের
চিন্তা মাথা থেকে বাদ দিতে হবে। তাই আপনার ঘুম ভালো করার জন্য গভীর ভাবে
নিশ্বাস নিন এবং চিন্তা মুক্ত থাকুন এতে আপনার খুব তারা তারি ঘুম চলে আসবে।
ভালো ঘুমের জন্য রাতে স্ক্রিন টাইম কমান
ভালো ঘুমের জন্য আমাদের উচিৎ ঘুমাতে যাওয়ার কমপক্ষে এক ঘন্টা আগে মোবাইল, টিভ,
কম্পিউটার বন্ধ করে দেওয়া, কারণ এসব স্ক্রিন থেকে যে একটা নীল আলো বের হয় তা
আমাদের ঘুম আসার জন্য যে হরমোন তৈরি হয় তাকে বাধার সৃষ্টি করে এর ফলে
তারা তারি ঘুম আসতে চায় না। এই নীল আলো আমাদের মস্তিস্কে দিনের আলোর মতো
উদ্দীপনা তৈরি করে তাই সহজে ঘুম আসতে চায়না।
আলোর আশে পাশে থাকলে আমাদের মস্তিস্ক ভাবে এখনো সকাল ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়। তাই
রাতে যত তারাতারি পারা যায় এই রকম আলো যুক্ত স্ক্রিন থেকে দুরে রাখার এতে আপনার
ঘুম ভালো হবে। আরেকটা কথা হলো আপনার শোয়ার ঘরটা শুধু ঘুমের জন্য ও বিশ্রামের
জন্য ব্যবহার করুন। ভালো ঘুমের জন্য শোবার ঘরে টিভি কম্পিউটার না রাখা ভালো তাই
ভালো ঘুমের জন্য আপনার স্ক্রিন টাইম কমানো খুব জরুরী।
আরমদায় ঘুমের জন্য রুটিন তৈরি
আপনার যদি সহজে ঘুম না আসে তাহলে মনকে শান্ত করার জন্য কিছু সহজ কৌশল ব্যবহার
করুন যা আপনার মনকে চাপ মুক্ত করে। লম্বা শ্বাস নেওয়ার ব্যায়াম যেমন, ৮
থেকে ৮ বার এই কৌশলটি ঘুম আসার জন্য ভালো কার্যকর ও প্রমাণিত। এই ব্যায়াম
আমাদের চিন্তা বা অনুভুতিকে শান্ত করে, যা আমাদের তারা তারি ঘুম আসতে খুব ভালো
কাজ করে।
আপনার শরীরের প্রতিটি পেশিকে আস্তে আস্তে শিথিল করার চেষ্টা করুন যেমন গা ছেড়ে
দিয়ে ঘুমানোর চেষ্ট করুন সম্পূর্ণ শরীল হলকা করুন। এই পদ্ধতিটা আপনার শরীরকে
গভীর বিশ্রামের জন্য তৈরি করতে সাহায্য করে এবং খুব তারাতারি ঘুম চলে
আসে। এই রুটিন টা ঘুমের ফলো করুন। আর ঘুমের আগে খাবারের ক্ষেত্রে হালকা খাবরের
রুটিন ফলো করুন এতে আপনার ঘুম হবে অনেক আরামের।
জলদি ঘুম আসার জন্য প্রাকৃতিক খাবার
আপনার ঘুম ভালো করতে ঘুমানোর ২ থেকে ৩ ঘন্টা আগে বেশি ভারী ভাবার খাওয়া থেকে
বিরত থাকুন কারণ অতিরিক্ত খাবার খেলে হজম হতে অনেক সময় লাগে এতে আপনার ঘুমের
ক্ষতি হতে পারে। আর রাতে বেশি খাবর খেলে পেটের চাপের সমস্যায় আপনার ঘুম
ভেঙ্গে যেতে পারে। তাই আমাদের উচিৎ হবে ঘুমানোর আগে হালকা খাবার গ্রহন
করা এতে সহজে হজম হয় এবং শরীর শান্ত থাকে
কিছু ভাবার আছে যা ঘুম আনতে সহায্য করে যেমন, কলা, বাদাম, শিমের বীজ এসব
খাবার আমাদের দেহের পেশিকে শিথিল রাখে আর দ্রুত ঘুম আসতে সাহায্য করে। আর
বিকেলের পর থেকে চা কফি বা বেশি চিনি যুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন কারণ
এই সমস্ত খাবার রাতে ঘুম আসে বাধা সৃষ্টি করে। তাই প্রাকৃতি উপায়ে ঘুমাতে
চাইলে প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।
ঘুমের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করা
খুব ভালো ঘুমের জন্য আপনার শোবার ঘরটিকে আরামের যায়গা হিসেবে তৈরি করুন যা শুধু
বিশ্রামের জন্য। ঘরকে যতটা সম্ভব অন্ধকার ও শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। কার ঘরে
যদি কোন আলো প্রবেশ করে তাহলে আপনার ঘুমর ব্যাঘাত ঘটতে পারে। ঘরের তাপমত্রা কম
থাকলে তারাতারি ঘুম চলে আসাতে পারে।
বাইরের শব্দ বা অন্য কোন আলো যাতে ঘরে প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য মোটা
পর্দা ব্যবহার করতে পারেন। আরাম দায়ক ঘূমের জন্য ভালো তোশক ও নরম বালিশ ব্যবহার
করুন। যা আপনার শরীর কে আরাম দায়ক ঘুম সাহয্য করবে। আর আপনি যদি ঘুমানোর ঘরে
আরামদায়ক পরিবেশে করতে পারেন তাহলে আপনার ঘুম হবে আরামদাময়ক যা প্রাকৃতিক উপায়ে
ঘুম আসার অন্যতম শর্ত।
নিয়মিত শরীরচর্চাই রাতের ভালো ঘুমের আসল চাবিকাঠি
প্রতিদিন সকালে বা বিকেলে নিয়মিত হালকা বা মাঝারি ভাবে ব্যায়াম করার অভ্যাস
করুন। এতে আপনার শরীর একটু ক্লান্ত থাকবে এবং রাতে ঘুম আসতে সাহায্য করবে। যা
আমাদের স্বাভাবিক ঘুম আসার জন্য কাজ করবে। তবে ঘুমানোর আগে কোন কঠিন ব্যায়াম
থেকে বিরত থাকুন কারণ এতে আপনার শরীর উত্তেজিত হয়ে ঘুম আসতে বাধা সৃস্টি
করতে পারে।
ব্যায়ামের ক্ষেত্রে হলো সাতার, দ্রুত হাটা ও যোগ ব্যায়ামের মতো মাঝারি
ব্যায়ামগুলো ঘুমকে খুব ভালো করে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে আমাদের গভীর ঘুমের সময়
বাড়ে। সকালে রোদে ব্যায়াম করলে আমাদের শরীরের ভেতরের প্রাকৃতিক সময়সূচি বা
টাইমিং সিস্টেম ঠিক থাকে। তাই ব্যায়াম আমাদের মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর যা
রাতের ঘুমের আসল চাবিকাঠি।
ঘুমের আগে গরম পানিতে গোসল করা
আপনি যদি ঘুমানোর আগে গরম পানিতে গোসল করতে পারেন তাহলে আপনার শরীর শিথিল হবে।
গরম পানিতে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ে এবং গোসল করার পর যখন তাপমাত্রা কমতে
শুরু করে তখন আপনার শরীর একটা প্রশান্তি অনুভব করবে আর আপনার ঘুম আসার অনুভব
হবে। এই প্রক্রিয়াটি মস্তিস্ককে ঘুমের জন্য তৈরি করে দেয়। এবং প্রাকৃতিক উপায়ে
ঘুম আসার উপায় অন্যতম উপায়।
আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশ থেকে কম খরচে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়
যদি আপনি সম্পূর্ণ গোসল করতে না পারেন তাহলে গরম পানিতে শুধু পা ডুবিয়ে রাখলেও
আরামদায়ক হতে পারে। এটি শরীরের রক্ত চলাচল ভালো ভাবে করতে সাহায্য করে। এর ফলে
আপনি যখন ঘুমানোর জন্য বিছানায় যাবেন তার পরে আপনার ঘুম তারাতারি আসতে সাহয্য
করবে। তাই যদি পারেন রাতে ঘুমানোর আগে গরম পানিতে গোসল করে নিবেন বা গরম পানিতে
পা ভিজিয়ে রাখবেন দেখবেন এতে আপনার গভীর ঘুম হওয়ার সম্ভবনা থাকবে।
গভীর ঘুমের জন্য ঘরোয়া সমাধান
ঘুম আমাদের শরীর আর মনের জন্য অনেক দরকারি। বর্তমানে ঘুম না হওয়া বা ঘুমের
সমস্যা একটা সাধারণ ঘটনা হয়ে গেছে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেক মানুষেই
ঔষধ খান, যা নিয়মিত খেলে শরীরর ক্ষতি হতে পারে, তবে ঔষধ না খেয়েও ভালো ঘুমানোর
জন্য বেশ কিছু ঘরোয়া উপায় আছে, যেগুলো আমরা প্রতি দিনের লাইফ স্টাইল
বদলালে কাজে লাগাতে পারি। ঠিক মতো খাবার খাওয়া আরামদায়ক পরিবেশ ও চিন্তা মুক্তি
কমানোর মাধ্যমে ঘুমের মান বাড়ানো যায়।
ভালো ঘুমের জন্য শোবার ঘরের পরিবেশ কুব জরিুরি। আপনার ঘরটা অন্ধকার ও শান্ত
রাখা খুব জরুরী। এ ছাড়াও ঘুমানোর এক ঘন্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার
করা বন্ধ করে দিতে হবে। টিভি মোবাইল, কম্পিউটার এসবের নীল আলো ঘুমের
হরমোন তৈরি করতে বাধা সৃষ্টি করে এই অভ্যাস গুলো মেনে চলতে পারলে ঘরোয়া ভাবে
গভীর ভাবে ঘুমানো যায়।
ভালো ঘুমের জন্য সেরা প্রাকৃতিক কৌশল
রাতে ঘুম না আসার কষ্ট থেকে বাচতে আমরা ঘুমের সমস্যা কাটানোর কিছু সহজ
প্রাকৃকিত কৌশল ব্যবহার করতে পারি। এর মধ্যে হলে শ্বাস প্রশ্বাসের বিশেষ
ব্যায়াম ৪ থেকে ৮ বার করুন এবং যোগ ব্যায়াম এর মতো ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন
এতে আপনার মস্তিস্ক শান্ত থাকে মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা কমায় এতে ঘুম অনেক ভালো
হয়।
এছাড়াও হারবাল চা বা ভ্যালেরিয়ান রুট ভেষজ চা খেলেও ঘুম আসতে ভালো কাজ করে। এই
ভেষজ গুলোতে এমন কিছু উপাদান আছে আছে যা আপনার মস্তিস্ককে শান্ত রাখতে সাহায্য
করে। তবে মনে রাখবেন শুধু এই পদ্ধতি গুলো মানলে হবে না। প্রাকৃতিক ভাবে ভালো
ঘুমের জন্য প্রতি দিন এক সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। আপনি যদি একটা
টাইমে ঘুমানোর অভ্যাস করতে পারেন। তাহলে ঘুমের সমস্যা সহজে দুর করা যেতে
পারে।
উপসংহারঃ প্রাকৃতিক উপায়ে ঘুম আসার উপায়
এই পোস্টের মাধ্যমে আজ আমরা জানতে পারলাম, প্রাকৃতিক উপায়ে ঘুম আসার উপায়।
সহজে আর ভালো করে ঘুমোতে গেলে ঠিক কী কী প্রাকৃতিক উপায় মেনে চলতে হবে। মূল
কথাটা হলো ভালো ঘুম এমনি এমনি আসে না, এর জন্য একটা নিয়ম-রুটিন আর শান্ত
পরিবেশ তৈরি করা দরকার। আমরা আরো জানতে পারলাম যে রোজ একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া,
ঘুমোতে যাওয়ার আগে মোবাইল বা টিভির নীল আলো থেকে দূরে থাকা আর ঘরটাকে অন্ধকার
ও ঠান্ডা রাখাটা খুব জরুরি। এছাড়াও, রাতে মশলাদার খাবার না খেয়ে হালকা কিছু
খাওয়া, চা-কফি এড়িয়ে যাওয়া আর স্ট্রেস কমানোর জন্য শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম
করলে অনেক তাড়াতাড়ি ভালো ঘুম আসে। এই সহজ টিপসগুলো মেনে চললে আপনি কোনো ওষুধ
ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে আপনার ঘুমের মান অনেক ভালো করতে পারবেন।
আমি মনে করি, শরীর ও মন দুটোই ভালো রাখতে গভীর ঘুম অনেক দরকারি। , আর ঘুম
আসছে না বলে তারাতারি করে ওষুধের দিকে না গিয়ে, সবার আগে এই প্রাকৃতিক
নিয়মগুলো মন দিয়ে মেনে চলা উচিত। প্রতিদিন একটু ব্যায়াম করা, ঠিকঠাক খাবার
খাওয়া আর শোবার ঘরটাকে শুধু আরাম করার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করলে ঘুমের
সমস্যা নিশ্চিতভাবে কমবে। প্রাকৃতিক উপায়ে ঘুম আসার জন্য এই উপায়গুলো অনেক
গুরত্বপূর্ণ।
সার্ভিস আইটির নিয়ম মেনে কমেন্ট করুন প্রত্যেকটা কমেন্টের রিভিউ করা হয়।
comment url