কিভাবে ফেসবুকে কন্টেন্ট মনিটাইজেশন পাবেন
গোলাপ জল মুখে কিভাবে ব্যবহার করবকিভাবে ফেসবুকে কন্টেন্ট মনিটাইজেশন পাবেন, ভাবছেন কিন্তু বুঝতে পারছেন না। চলুন জেনে নেওয়া যাক। আপনার ব্লগিং কন্টেন্টকে ফেসবুকে খুব সহজে মনিটাইজেশন করে নিশ্চিত আয় শুরু করুন।
আজ আমরা আপনাকে এই পোস্টের মাধ্যমে জানিয়ে দিব, কীভাবে ফেসবুক মনিটাইজেশন সহজে পাওয়া যায়, এবং কিভাবে ফলোয়ার ও ভিউ টাইম বাড়ানোর যায়। মনিটাইজেশন পেতে হলে ফেসবুকের শর্তগুলো কিভাবে সহজে পূরণ করা যায়। সম্পূর্ণ বিষয়গুলো জানতে হলে পুরো পোস্টটি পড়তে থাকুন।
পোস্ট সূচীপত্রঃ কিভাবে ফেসবুকে কন্টেন্ট মনিটাইজেশন পাবেন
- কিভাবে ফেসবুকে কন্টেন্ট মনিটাইজেশন পাবেন
- মনিটাইজেশন পাওয়ার জন্য পেইজ সেটআপ
- দরর্শক কে আকর্ষন করে মনিটাইজেশন পাওয়ার উপায়
- ফেসবুক মনিটাইজেশন পাওয়ার নিয়ম-কানুন
- কিভাবে ফেসবুক মনিটাইশনের জন্য আবেদন করবেন
- সহজে মনিটাইজেশন পাওয়ার জন্য কনটেন্ট প্রচার কৌশল
- দর্শকদের ধরে রেখে মনিটাইজেশন
- ডেটা ব্যবহার করে মনিটাইজেশন উন্নত করা কৌশল
- মনিটাইজেশনের পরে পে আউট একাউন্ট সেটআপ ও টেক্স
- মনিটাইজেশন নিয়ম নীতি ও সমস্যা হলে করনীয়
- উপসংহারঃ কিভাবে ফেসবুকে কন্টেন্ট মনিটাইজেশন পাবেন
কিভাবে ফেসবুকে কন্টেন্ট মনিটাইজেশন পাবেন
কিভাবে ফেসবুকে কন্টেন্ট মনিটাইজেশন পাবেন, ফেসবুকে কন্টেন্ট মনিটাইজেশন পেতে হলে সবার আগে ফেসবুকের কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। ভিডিওর মাঝে বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে আপনার ফেসবুক পেজে কমপক্ষে ৫ হাজার ফলোয়ার থাকতে হবে। এর পাশাপাশি, গত ৬০ দিনের মধ্যে আপনার ভিডিওগুলোতে মোট ১ লক্ষ ৮০ হাজার মিনিট ওয়াচ টাইম হতে হবে। এছাড়া, আপনার পেজে বা প্রোফাইলে আপনার নিজের তৈরি রিলস বা শর্ট ভিডিওর ক্ষেত্রে, সেই ভিডিও ১৫ সেকেন্ড এর বেশি হওয়া লাগবে, এই শর্ত যাদি আপনার পূরণ হয় তাহলে আপনি মনিটাইজেশনের জন্য আবেদন করতে পারবেন, এবং টাকা ইনকামের সুযোগ তৈরি হবে।
মনিটাইজেশনের জন্য শুধু শর্ত পূরণ করলেই হবে না, আপনার কন্টেন্ট বা ভিডিও হতে হবে মানসম্মত এবং নিজের বানানো। আপনাকে নিয়মিতভাবে ভালো মানের নিজের ভিডিও বা কন্টেন্ট পাবলিশ করতে হবে, এবং ফেসবুকের শর্ত মেনে চলতে হবে। ভুলেও অন্য কারো ভিডিও বা কপিরাইট করা কোনো জিনিস ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এতে আপনার মনিটাইজেশন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আপনার পেজের ফলোয়ারদের সাথে নিয়মিত কথা বলার চেষ্টা করবেন, প্রতিটা কমেন্টের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন। লাইভে আসবেন, লাইভে এসে সকল দর্শকদের সথে কথা বলার চেষ্টা করবেন। যারা কথা বলেনা, তাদের কে কথা বা কমেন্ট করার জন্য উৎসাহিত করবেন। এতে লাইক, কমেন্ট শেয়ার বাড়বে, এবং আপনার মনিটাইজেশন পেতে সুবিধা হবে।
আপনার যখন ফেসবুকের সকল শর্ত পূরণ হয়ে যাবে, তখন আপনাকে মেটা বিজনেস সাইটে যেতে হবে। সেখানে মনিটাইজেশন অপশনে ক্লিক করে আপনার পেজটি যোগ্য কিনা তা চেক করে নিতে হবে। কিভাবে বুঝবেন আপনার পেজ বা প্রোফাইল যোগ্য, যদি মনিটাইজেশন অপশনে চাপ দেওয়ার পর (eligible) এই লেখাটা থাকে, তাহলে আপনি মনিটাইজেশন এর জন্য "Apply" বাটনে ক্লিক করে আবেদন করুন। ফেসবুক আপনার আবেদনটি ভালো করে দেখবে আপনি মনিটাইজেশন পাওয়ার যোগ্য কিনা যদি যোগ্য হয়ে যান তহলে আপনাকে অনুমোদন দিয়ে দিবে। এই অনুমোদনে সাধারণত এক সপ্তাহ থেকে এক মাস সময় লাগতে পারে। এরপর অনুমোদন পেলেই আপনার কনটেন্টের মাধ্যমে টাকা আসা শুরু করবে।
মনিটাইজেশন পাওয়ার জন্য পেইজ সেটআপ
আপনি যদি ফেসবুক মনিটাইজেশন তাহলে আপনাকে একটা প্রফেশনাল এবং সুন্দরভাবে সাজানো ফেসবুক পেইজ খুলতে হবে। কারণ ব্যক্তিগত প্রোফাইলের চেয়ে একটা পেইজ তৈরি করা জরুরি, মনিটাইজেশনের বেশিরভাগ নিয়ম কানুন পেইজের জন্য তৈরি। পেইজের নাম অবশ্যই আপনার ব্লগ বা আপনার যদি কোন ব্যবসা থাকে তার সাথে নামের মিল থাকতে হবে। আপনার পেইজের About অংশটা বিস্তারিত এবং সঠিক ভাবে পূরণ করুন এবং সেখানে আপনার মূল ব্লগের লিঙ্ক যোগ করুন। সঠিক ক্যাটাগরি (যেমন ব্লগার বা ডিজিটাল ক্রিয়েটর) বেছে নেওয়া নিতে হবে, যা আপনার ব্র্যান্ডের পরিচিতি বাড়ায় এবং মনিটাইজেশন প্রক্রিয়াকে সহজ করে।
আর আপনি যদি আপনার ফেসবুক পেইজকে বা প্রোফাইলকে ভালো ভাবে অপটিমাইজ করতে হলে আপনাকে প্রতিদিন ভালো মানের কন্টেন্ট বা পোস্ট করতে হবে। আপনার পোস্টের সময় এমনভাবে নির্ধারণ করুন যাতে আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ড বা ভিউয়ারর্সরা যখন ফেসবুকে আসবে তথনি তাদের সামনে ভিডিও চলে যায়। এতে করে আপনার পোস্টের রিচ বারবে। আরো যে কাজ আপনাকে করতে হবে, আপনাকে প্রতিটি পোস্টের জন্য দরকারি হ্যাশট্যাগ বসাতে হবে। আর ভালোমানের ছবি,ভিডিও, এবং উন্নত মানের থাম্বনেইল ব্যবহার করতে হবে যাতে দরশর্কদের আকর্শনীয় হয়।
একটা বিষয় খুব ভালো ভাবে খেয়াল করবেন ফেসবুক ক্রিয়েটর স্টুডিও এটা হলো একটা খুব কাজের টুল,যা আপনাকে আপনার কন্টেন্ট আপলোড করা, কখন পোস্ট করতে হবে তা ঠিক করা, এবং মনিটাইজেশন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এই ড্যাসবোর্ড টিতে আপনি আপনার সকল কন্টেন্ট ম্যানেজ করতে পারবেন এবং এটি মনিটাইজেশন এর জন্য যোগ্যতা বারাবে, আপনার কোন কন্টেন্ট বা কোন ভিডিও মনিটাইজেশনের জন্য যোগ্য তা দেখতে পারবেন। এই টুলটার সঠিক ব্যবহার করেত জানলে আপনর মনিজাইজেশন প্রক্রিয়া আরো সহজ হবে। আপনি যদি এই ফেসবুক ক্রিয়েটর স্টুডিও এর ব্যবহার না জানেন তাহলে ইউটিউব বা কারো কাছ থেকে বিষয়টা জেনে নিন এতে আপনার অনেক কাজে দেবে আশা করি এই ব্যপার টা আপনি নিজেও বুঝতে পেরেছেন।
দরর্শক কে আকর্ষন করে মনিটাইজেশন পাওয়ার উপায়
ফেসবুকে আপনি দর্শককে ধরে রাখতে হলে আপনার পোস্ট আকর্ষণীয় ভাবে তৈরি করবেন। যে দর্শক যাতে ভিডিও বেশিক্ষন দেখতে থাকে বা আকর্ষন করে। এ জন্য আপনার একটা বিষয় নিয়ে পোস্ট করবেন সেটার পর্ব হিসেবে ধাপে ধাপে ভিডিও দিবেন তাহলে এক পর্ব দেখলে আরেক পর্ব দেখার আগ্রহ বাড়বে, এতে করে আপনার ভিডিও দর্শকের মন ধরে রাখবে এবং আপনার ভিউটাইম বারবে এবং মনিটাইজেশন পেতে সহজ হবে। আরেকটা কাজ যেটা করবেন আপনি যে ভিডিও বা কন্টেন্ট পোস্ট করবেন তার মূল বিষয় খুব ভালো ভাবে উপস্থাপন করবেন যাতে দর্শক খুব তারাতারি বুঝতে পারে যে আপনি কি বিষয় পোস্ট করেছেন।
আর আপনাকে নিয়মিত পোস্ট করতে হবে। আপনার নিয়মিত ফেসবুকের জন্য বিশেষ কন্টেন্ট তৈরি করা উচিত, যা ফলোয়র ও ভিউ টাইম বাড়িয়ে মনিটাইজেশনের পথ তৈরি করে। এর মধ্যে থাকতে পারে লাইভ ভিডিও করা, প্রশ্নোত্তর পর্ব, অথবা ছোট ছোট টিপস ও ট্রিকস নিয়ে তৈরি রিলস। এই ধরনের ছোট ছোট ভিডিও দর্শকদের সক্রিয়ভাবে আপনার আকর্ষণ ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফেসবুক পর্যবেক্ষন করে দেখুন মানুষ কোন ধরনে ভিডিও বেশি পছন্দ করে, তাই দর্শকের পছন্দ মতো ভিডিও তৈরি করুন। মনে রাখবেন দর্শকদের আনন্দ দিতে পারেলে আপনার ভিডিও ও কন্টেন্ট বেশি করে দেখবে এতে আপনার ভিও ও রিচ বারড়ে এর কারণে আপনার মনিটাইজেশন পেতে ও ধরে রাখতে সহজ হবে।
আরো পড়ুনঃ ৫ ৬ ইঞ্চি লম্বা হওয়ার উপায়
মনিটাইজেশন পাওয়ার জন্য সবচেয়ে জরুরি শর্তগুলোর মধ্যে একটা হলো আপনার পেইজে পোস্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মিত পোস্ট করতে হবে। আপনি যাদি নিয়মিত কিছুটা বিরতি বা বিরতির পর নতুন কিছু, ভালো মানের কন্টেন্ট আপলোড করেন তাহলে ফেসবুকের অ্যালগরিদম আপনার পেইজকে অন্যদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিবে। তাই আপনি আপনার একটা ভালো সময় পছন্দ মতো ঠিক করে নিয়ে এবং সেটা মেনে পোস্ট করুন। প্রতি সপ্তাহে ভালো মানের কমপক্ষে ৩- ৫ টি পোস্ট করুন। নিয়মিত পোস্ট করলে আপনার ভিডিও দর্শকের নিউস ফিডে থাকে এবং ফলোয়ার ধরে রাখে, এতে আপনার মনিটাইজেশন ধরে রাখতে সহায়তা হবে।
ফেসবুক মনিটাইজেশন পাওয়ার নিয়ম-কানুন
ফেসবুকে মনিটাইজেশন পেতে হলে সাধারণত আপনার পেইজে একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক ফলোয়ার থাকতে হয়। ফলোয়ারের পাশাপাশি, গত ৬০ দিনের মধ্যে ভিডিওতে একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিউ টাইম অর্জন করা খুব জরুরি। এই সংখ্যা অর্জন করার জন্য আপনার কন্টেন্টকে বেশি করে প্রচার করতে হবে এবং নিয়মিতভাবে দরকারি কন্টেন্ট দিতে হবে। আপনার ভিডিও কন্টেন্টগুলো যেন দর্শকদের ধরে রাখতে পারে এবং দর্শক যেন সম্পূর্ণ ভিডিওটি দেখে, সেইদিকটা আপনাকে নজর দিতে হবে, যা মনিটাইজেশনের সংখ্যাগত শর্ত পূরণে সাহায্য করবে।
মনিটাইজেশন পেতে হলে, আপনাকে শুধু সমাজের ভালো নাগরিক হলেই চলবে না, আপনাকে একজন দায়িত্বশীল এবং মৌলিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও হতে হবে, এবং এর নিয়ম কানুন কঠোরভাবে মেনে চলা আবশ্যক। এই নিয়মগুলো আপনার কন্টেন্ট এবং পেইজের নিতিগত মান নিশ্চিত করে। কোনোভাবেই কপিরাইট করা কন্টেন্ট, হিংসামূলক কথা বা ভুল তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। এই নিয়মগুলো না মানলে মনিটাইজেশনের আবেদন বাতিল বা পাওয়া মনিটাইজেশনও বাতিল হয়ে যেতে পারে। নিয়মিতভাবে ফেসবুকের নিয়মগুলো দেখুন এবং সেই অনুযায়ী আপনার কন্টেন্ট তৈরি করুন। নিয়ম মেনে চললে আপনি দীর্ঘ সময় ধরে ফেসবুকে সফলভাবে কন্টেন্ট তৈরি ও মনিটাইজ করতে পারবেন।
ফেসবুক এখনো সকল দেশে মনিটাইজেশন চালু করেনি। আপনার পেইজটি অবশ্যই ফেসবুকের মনিটাইজেশন যোগ্য দেশের তালিকায় আছে কিনা তা দেখেতে হবে। আপনার অবস্থান যদি যোগ্য দেশের তালিকায় না থাকে, তবে আপনি মনিটাইজেশনের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। এই শর্ত পূরণ করতে হলে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং সব ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্য এমন একটা দেশের সাথে যুক্ত করতে হবে যেখানে ফেসবুক মনিটাইজেশন চালু আছে। ভৌগোলিক এই শর্ত পূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা মনিটাইজেশন প্রক্রিয়া শুরুর জন্য অত্যন্ত জরুরি।
কিভাবে ফেসবুক মনিটাইশনের জন্য আবেদন করবেন
মনিটাইজেশনের জন্য আবেদন করার আগে নিশ্চিত করুন যে আপনার পেইজ সব যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেছে, যেমন: যথেষ্ট ফলোয়ার, ভিউ টাইম এবং কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলা। আপনার পেইজের মান পরীক্ষা করুন এবং কোনো নীতি লঙ্ঘনকারী পোস্ট থাকলে তা ডিলিট বা ঠিক করুন। আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং ট্যাক্স সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন, কারণ আবেদনের একটা ধাপে এই তথ্যগুলো দিতে হবে। একটি পরিচ্ছন্ন ও পেশাদার পেইজ এবং সঠিক কাগজপত্র আপনার আবেদনের সফলতার সম্ভাবনা বাড়ায়।
ফেসবুক ক্রিয়েটর স্টুডিওর মনিটাইজেশন (Monetization) ট্যাব থেকে আপনি আপনার পেইজের যোগ্যতা যাচাই করতে পারবেন এবং আবেদন শুরু করতে পারবেন। যোগ্যতার শর্ত পূরণ হলে, আপনি 'Apply Now' বাটন দেখতে পাবেন। আবেদন ফর্মে আপনাকে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, যোগাযোগের ঠিকানা এবং পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। এই ধাপে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তথ্য যোগ করতে হবে যাতে ফেসবুক আপনার রোজগারের টাকা পাঠাতে পারে। নিশ্চিত করুন যে সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করা হয়েছে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর ফেসবুক আপনার পেইজ এবং কন্টেন্ট কঠোরভাবে যাচাই করবে, যা শেষ হতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। যদি আপনার আবেদন সফলভাবে অনুমোদন পায়, তবে আপনি আপনার বেছে নেওয়া মনিটাইজেশন টুলস ব্যবহার করে টাকা রোজগার করা শুরু করতে পারবেন। যদি আবেদন বাতিল হয়, তবে ফেসবুক সাধারণত কারণ জানিয়ে দেয় এবং নির্দিষ্ট সময় পর আবার আবেদন করার সুযোগ দেয়। বাতিলের কারণগুলো চিহ্নিত করে আপনার পেইজে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে আপনি আবার মনিটাইজেশনের জন্য আবেদন করতে পারেন।
সহজে মনিটাইজেশন পাওয়ার জন্য কনটেন্ট প্রচার কৌশল
আপনি যদি আপনার কন্টেন্টে বা ভিডিও এর রিচ বাড়াতে চান তাহলে আপনার সব সোসাল মিডিয় একাউন্টে ফেসবুক কন্টেন্টের প্রচার করা উচিত, যা আপনার মনিটাইজেশনের জন্য দরকারি ভিউ ও ফলোয়ার পেতে সুবিধা হয়। আপনার ব্লগ, ওয়েবসাইট, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব বা টুইটারে আপনার ফেসবুক পোস্ট এবং লাইভ ভিডিওগুলির লিঙ্ক শেয়ার করুন। আপনার ব্লগের প্রতিটি পোস্টের শেষে আপনার ফেসবুক পেইজের একটা বাটন যোগ করুন, যেমন ফেসবুকে আমাদের ফলো করুন বা 'ভিডিওটি ফেসবুকে দেখুন'। এভাবে প্রচার করলে লোকে আপনার নাম বা আপনার ভিডিও সব জায়গায় দেখতে পায়।
আপনি যদি চান আপনার নিজের কোন অ্যাড ফেসবুকে চালাবেন তাহলে, তবে ফেসবুক অ্যাডস ব্যবহার করে আপনার সেরা কন্টেন্টগুলোকে টার্গেটেড দর্শকদের কাছে প্রচার করতে পারেন। কম টাকা খরচ করে শুরু করুন এবং আপনার সবচেয়ে সফল ভিডিওগুলোকে বুস্ট করুন, যা আপনাকে দ্রুত ফলোয়ার এবং ভিউ টাইম পূরণ করতে সাহায্য করবে। বিজ্ঞাপন দেওয়ার সময় আপনার লক্ষ্য ঠিক করা জুরুরি আপনি কি ফলোয়ার বাড়াতে চান, নাকি নির্দিষ্ট ভিডিওতে ভিউ বাড়াতে চান? বিজ্ঞাপনের জন্য একটা পরিষ্কার, নজরকাড়া থাম্বনেইল এবং পোস্টের শেষে দর্শক উদ্দেশ্য করে বলুন আরো নতুন নতুন শিক্ষনিয় ভিডিও পেতে আমার ফেসবুক পেজটিকে ফলো দিতে ভুলবেন না।
আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশ থেকে কম খরচে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়
একটা বিষয় মনে রাখবেন বর্তমানে যে ফেসবুক গ্রুপগুলি আছে আপনার কন্টেন্টের প্রচার এবং আপনার কমিউনিটিকে শক্তিশালী করার জন্য খুব কাজের একটা মাধ্যম, যা ভিজিটর বাড়িয়ে মনিটাইজেশনের পথ তৈরি করে। আপনার ব্লগ বা বিষয়বস্তু সম্পর্কিত একটা ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করেন, এবং সেখানে আপনার নতুন কন্টেন্টের লিঙ্ক শেয়ার করেন। অন্য জনপ্রিয় ফেসবুক গ্রুপগুলিতে আপনার কন্টেন্ট শেয়ার করার সময় গ্রুপটির নিয়মাবলী মেনে চলবেন এবং স্প্যামিং করা থেকে বিরত থাকবেন। এই কৌশল আপনার কন্টেন্টের ভিউ বাড়াবে এবং নতুন ফলোয়ার পেতে সাহায্য করবে।
দর্শকদের ধরে রেখে মনিটাইজেশন
আপনি যদি লাইভ করেন মনে রাখবেন লাইভ ভিডিওগুলো ফেসবুকের অ্যালগরিদমে বেশি গুরুত্ব পায়। আপনার কনটেন্ট যদি 'অ্যালগরিদমে বেশি গুরুত্ব' পায়, তবে এটি ভাইরাল হওয়ার বা বেশি রিচ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। এবং এনগেজমেন্ট বাড়াতে খুবই কার্যকর, যা সরাসরি মনিটাইজেশনকে সমর্থন করে। ভিডিও কন্টেন্টের ওপর ভিত্তি করে লাইভ প্রশ্নোত্তর সেশন, টিউটোরিয়াল বা আলোচনার সেশন করুন। লাইভ চলার সময় দর্শকদের মন্তব্য এবং প্রশ্নের সাথে সাথেই উত্তর দিন। লাইভ সেশন শুরুর আগে এবং পরেও আপনার পেইজে পোস্ট করে দর্শকদের জানিয়ে দিন। লাইভ ভিডিওগুলো স্টারস মনিটাইজেশন এবং ভিউ টাইম পূরণেও সহায়ক।
আপনার কন্টেন্টে দর্শকদের কমেন্টে কখনোই এড়িয়ে যাবেন না। প্রতিটি কমেন্টের দ্রুত এবং আন্তরিকভাবে উত্তর দিলে আপনার দর্শকরা বুঝবে যে আপনি তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এটা এনগেজমেন্ট রেট বাড়াতে সাহায্য করে, যা ফেসবুকের অ্যালগরিদমের কাছে একটা ইতিবাচক বার্তা। কমেন্ট প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে আলোচনা চালিয়ে যান এবং অন্যান্য দর্শকদেরও কথা বলতে উৎসাহিত করুন। আপনার দর্শকদের সাথে একটা ইতিবাচক এবং কথাবার্তার মাধ্যমে তৈরি সম্পর্ক তৈরি করা আপনার পেইজের দীর্ঘদিনের সাফল্যের জন্য খুব জরুরি।
আপনার কন্টেন্টের সাথে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা এবং পোল মতামত চাওয়ার জন্য প্রশ্ন তৈরি করা দর্শকদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার একটা সহজ উপায়। আপনার ব্লগ পোস্টের বিষয়বস্তু নিয়ে ফেসবুকে একটা সহজ প্রশ্ন করুন এবং দর্শকদের তাদের মতামত জানাতে উৎসাহ দিন। প্রশ্নগুলি দ্রুত মতামত পেতে এবং আপনার দর্শকদের পছন্দ-অপছন্দ বুঝতে সাহায্য করে। প্রশ্ন করার মাধ্যমে আপনার পেইজে একটা মজার এবং পারস্পারিক আলোচনার পরিবেশ তৈরি করে, যা এনগেজমেন্ট রেট বাড়িয়ে মনিটাইজেশনের প্রক্রিয়াকে গতি দেয়।
ডেটা ব্যবহার করে মনিটাইজেশন উন্নত করা কৌশল
ফেসবুক ইনসাইটস হলো একটা শক্তিশালী টুল যা আপনার পেইজ এবং কন্টেন্টের পারফরম্যান্স সম্পর্কে বিস্তারিত ডেটা দেয়। নিয়মিতভাবে ইনসাইটস পরীক্ষা করে আপনার কন্টেন্টের রিচ, এনগেজমেন্ট, ভিউ এবং ফলোয়ার বাড়ানোর হার পযবেক্ষন করুন। কোন পোস্টগুলো সবচেয়ে বেশি সফল হচ্ছে এবং আপনার দর্শক কারা, তা এই টুলসের মাধ্যমে জানা যায়। এই ডেটা আপনার ভবিষ্যতের কন্টেন্ট কৌশলকে ঠিক করতে সাহায্য করে এবং মনিটাইজেশন বাড়ানোর দিকনির্দেশনা দেয়।
আপনার যে পোস্ট বা ভিডিওগুলো সবথেকে ভালো চলছে, সেগুলোর ফলাফল দেখে বুঝে নিন যে, সেগুলোতে এমন কী বিশেষ জিনিস আছে। কোন ধরনের ভিডিও ফরম্যাট, বিষয়বস্তু সবচেয়ে ভালো কাজ করছে তা চিহ্নিত করুন। আপনার সফল কন্টেন্টের মূল বিষয়গুলো চিহ্নিত করুন এবং সেই ভাবে আপনার পরের ভিডিও তৈরি করুন। এটি আপনার কন্টেন্টের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং অ্যালগরিদমে ভালো র্যাঙ্ক পেতে সাহায্য করবে, যা ভালো কন্টেন্ট তৈরি করে মনিটাইজেশন নিশ্চিত করার কৌশল।
আর আপনি একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন কোন ধরনের কন্টেন্ট ভাইরাল হচ্ছে না। সে ভিডিওগুলো কেন ভাইরাল হলো না তা, নিজে বিশ্লেষন করেন। কম ভিউ হওয়া ভিডিও কন্টেন্ট গুলো আপনার নতুন কৌশলে আবার ঠিক করে নিন। মনে রাখবেন ভিউ কম হয়েছে বলে ভিডিও বা কন্টেন্ট ডিলিট করবেন না। সেই কম ভিউ হওয়া ভিডিও বা কন্টেন্ট সেগুলিকে উন্নত করার চেষ্টা করুন, যেমন: একটি কম ভিউ হওয়া ভিডিওতে নতুন একটি আকর্ষণীয় থাম্বনেইল যোগ করুন। আপনার দর্শকদের মতামত নিয়ে বুঝতে চেষ্টা করুন যে তারা কী ধরনের কন্টেন্ট আপনার কাছ থেকে দেখতে চায়। নিয়মিত চেষ্টা ও উন্নতি আপনার মনিটাইজেশন যাত্রার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মনিটাইজেশনের পরে পে আউট একাউন্ট সেটআপ ও টেক্স
মনিটাইজেশন অনুমোদন পাওয়ার পরে, আপনাকে আপনার পেমেন্ট পদ্ধতি সেটআপ করতে হবে। সাধারণত ফেসবুক ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা দেয়। আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ এবং অন্যান্য দরকারি তথ্য সঠিকভাবে দিন। ফেসবুক সাধারণত একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রোজগারের পরে প্রতি মাসে পেমেন্ট করে। আপনার পেমেন্ট স্ট্যাটাস এবং রোজগারের ইতিহাস আপনার ইনকামের সব তথ্য ক্রিয়েটর স্টুডিওর মনিটাইজেশন মেনুতে দেখা যায়।
ফেসবুক মনিটাইজেশন থেকে আপনি যে টাকা আয় করবেন, তার ওপর আপনার দেশের ট্যাক্স আইন অনুযায়ী কর দিতে হবে। পেমেন্ট সেটআপের সময় আপনাকে কর (ট্যাক্স) সংক্রান্ত W-9 বা W-8BEN-এর মতো কাগজ বা ফর্ম জমা দিতে হবে একজন ব্লগার হিসেবে আপনার স্থানীয় আয়কর অফিসে যারা চাকরি করে তাদের সাথে কথা বলা উচিত যাতে আপনি সব আইনি বাধ্যবাধকতা সঠিকভাবে পূরণ করতে পারেন। আয়ের সঠিক হিসাব রাখা এবং দরকারি কাগজপত্র সংরক্ষণ করা অপরিহার্য।
ফেসবুক ক্রিয়েটর স্টুডিওতে আপনি আপনার উপার্জনের বিস্তারিত প্রতিবেদন দেখতে পারবেন। এইখানে কোন কন্টেন্ট বা ভিডিও থেকে কত টাকা আয় হয়েছে এবং আপনার মোট আয় কত, তার সব তথ্য থাকে। নিয়মিতভাবে এই প্রতিবেদনগুলি দেখুন যাতে আপনি আপনার আয়ের উৎসগুলি বুঝতে পারেন। আয়ের প্রতিবেদনগুলি বিশ্লেষণ করে আপনি বুঝতে পারবেন কোন ধরনের বিজ্ঞাপন আপনার জন্য সবচেয়ে বেশি টাকা এনে দিচ্ছে। এই তথ্য ব্যবহার করে আপনি আপনার কন্টেন্ট বা ভিডিও কৌশলকে আরও লাভজনক উপায়ে সাজাতে পারেন।
মনিটাইজেশন নিয়ম নীতি ও সমস্যা হলে করনীয়
অনেক ব্লগার যথেষ্ট ভিউ পেলেও কম এনগেজমেন্ট হার নিয়ে সমস্যায় পড়েন, যা মনিটাইজেশনের সফলতায় বাধা দেয়। শুধু লাইক বা ভিউ যথেষ্ট নয় কমেন্ট, শেয়ার এবং ক্লিক-থ্রু রেটও গুরুত্বপূর্ণ। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আপনার কন্টেন্টকে আরও ইন্টারেক্টিভ এবং আলোচনার জন্ম দেয় এমনভাবে তৈরি করুন। আপনার পোস্টের ক্যাপশনগুলো আকর্ষণীয় এবং প্রশ্নবোধক করুন যাতে দর্শকরা কমেন্ট করতে উৎসাহিত হয়। নিয়মিতভাবে লাইভ সেশন এবং প্রশ্নের উত্তর পর্ব ধাপে ধাপে ব্যবহার করে কম এনগেজমেন্ট বাড়ানো যায়, এবং ফেসবুক ছাড়া আরো অন্যান্য সোসাল মিডিয়াতে আপনার ভিডিও বা কন্টেন্ট শেয়ার করে ভিউ ও রিচ বাড়ান তাহলে আপনার মনিটাইজেশন পেত সহজ হবে।
আরো পড়ুনঃ ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া
ফেসবুক প্রাই সময় তার নিয়ম নীতি বদলায়, যার কারনে দেখা যায় আগে যে আজ যে পোস্ট টা মানুষের কাছে যাচ্ছে পরে তা নাও যেতে পারেব বা ভিই কমে যেতে পারে। তাই আপনাকে ফেসবুকের নিয়ম নীতি মেনে তার পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে হবে। সবসময় মূল্যবান এবং অর্জিনাল কন্টেন্ট বা ভিডিও তৈরির ওপর মন দিন যা দর্শকদের ধরে রাখার জন্য জুরুরি। ফেসবুকের নিয়ম সাধারনত সেই ধরেনের পোস্ট আগে দেখায়, মানুষ যে সকল ভিডিও বা কন্টেন্ট এ লাাইক শেয়ার কমেন্ট করে। এই কারনে উচিত হবে শুধু এক ধরনের পোস্ট না করে ভিডিও ছবি লেখা সব ধরনের কন্টেন্ট ব্যবহার করা। যাতে আপনার কৌশল সব দিকে কাজ করে।



সার্ভিস আইটির নিয়ম মেনে কমেন্ট করুন প্রত্যেকটা কমেন্টের রিভিউ করা হয়।
comment url