আমার বিয়ে কবে হবে - আপনার বিয়ে কার সঙ্গে হবে
অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহারের নিয়মআমার বিয়ে কবে হবে, এই প্রশ্ন যদি আপনার মনে থেকে থাকে তাহলে তাকদীরে বিশ্বাস রেখে ও আল্লাহর উপর ভরসা করে, সঠিক জিবন সঙ্গী লাভের ইসলামিক পদ্ধতি, প্রস্তুতি ও করণীয় দুয়াগুলো জেনে নিন ।
আজ আমরা এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাকে জানিয়ে দিব আপনার বিয়ে কার সঙ্গে হবে। মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে কিভাবে আপনি বিয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবেন। দুশ্চিন্তা দূর করে কিভাবে সঠিক জিবন সঙ্গী পাবেন। জানতে হলে সম্পূর্ন পোস্টটি পড়তে থাকুন।
পোস্ট সূচীপত্রঃ আমার বিয়ে কবে হবে
- আমার বিয়ে কবে হবে | আপনার বিয়ে কবে হবে ইসলাম কি বলছে
- বিয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক পবিত্র সম্পর্ক
- আপনার বিয়ে কার সঙ্গে হবে | সবকিছু জানেন আল্লাহ
- আল্লাহর পক্ষথেকে ঠিক করে দেওয়া বিয়ের সময়
- আপনার জিবন সঙ্গী কেমন হবে
- বিয়ের জন্য মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি
- হালাল পন্থায় সঙ্গী খোজা ও পরিবারের মতামত
- বিয়েরপর, অধিকার ও দায়িত্ব
- আল্লাহকে ভয় করাই হলো দাম্পত্যের সুখের মূল চাবি
- বিয়ের আগে নিজেকে ভালো ভাবে গড়ে তোলা
- দোয়া-মুনাজাত করা আল্লাহর কাছে ভালো স্ত্রীর জন্য
- উপসংহারঃ আমার বিয়ে কবে হবে
আমার বিয়ে কবে হবে | আপনার বিয়ে কবে হবে ইসলাম কি বলছে
আমার বিয়ে কবে হবে, এ বেপারে ইসলাম কি বলছে, ইসলামে বিবাহকে বন্ধনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরয ও ইবাদত হিসেবে ধরা হয়, বিয়ে এমন একটা বৈধ সম্পর্ক যা ঈমানের অর্ধেক পূর্ণ করে। আপনার বিয়েসের সাথে সাথে আপনার যখন সামর্থ্য অর্জন করবেন ঠিক তখনি বিয়ে করে নিন। কারণ আমাদের নবী (সাঃ) বলেছেন তােমাদের বিয়ের বয়স ও সামর্থ্য থাকলে বিয়ে করে নাও। কারণ প্রাপ্ত বয়সক ও আর্থিক ভাবে সক্ষম ব্যক্তির জন্য বিয়ে করা ফরয। বিয়ে এমন একটি মাধ্যম, এর মাধ্যমে আপনার চরিত্রকে পবিত্র রাখা সম্ভব।
নবী (সাঃ) আরো বলেন যে বিয়ের সামর্থ্য অর্জন করে সে যেন বিয়ে করে নেয়, এতে অনেক প্রকার পাপ কাজ থেকে নিজেকে সংযত করা সম্ভব। সঠিক জীবনসঙ্গী খুজে পেলে এবং উভয় পক্ষ রাজি থাকলে দেরি না করে বিয়ে সম্পন্ন করাই ইসলামী আদর্শ। একটা বিষয় মনে রাখবেন আপনার বিয়ে কবে হবে, সেই ব্যপারটা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন, তাই আল্লাহর উপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখুন। আপনি ভালো জিবনসঙ্গী পাওয়ার জন্য নিয়মিত আল্লাহর কাছে দোয়ার করুন, আর সব সময় নেক আমল করার চেস্টা করেন।
বিয়ের সময় নির্ধরনে কোন কুসংস্কার কে প্রধান্য দিবেন না এতে করে অনেক বড় পাপের ভাগি হবেন, যেমন মানুষ বলে শুভ দিন। এটা এরক ধারনা থেকে বিরত নিজেকে রাখুন, এর জন্য ইসলাম কে প্রধান্য দিন। মনে রাখবেন বিয়ের মাধ্যমে মানসিক শান্তি ও সমাজে সম্মান পাওয়া যায়, তাই বিয়ের দিকে মনোযোগী হওয়া দরকার। একটা বিষয় মাথায় রাখবেন আল্লাহ তায়ালা তার বান্দার জন্য উপযুক্ত সময়ে সব কিছুর ব্যবস্থা করে দেন তাই ধৈর্য সহকারে আপনি বিয়ের জন্য অপেক্ষা করুন।
বিয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক পবিত্র সম্পর্ক
বিয়ে হলো ইসলামের একটা গুরুত্বপূর্ণ ফরয এবং ইবাদতের মাধ্যম, যা মানসিক শান্তি আর সমাজে সম্মানিত করে দেয়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন যে,তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই জোড়া সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাদের কাছে শান্তি পেতে পারো (সূরা আর-রুম, আয়াত: ২১)। এই আয়াত থেকেই বোঝা যায় যে, বিয়ে নামক সম্পর্কটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিরাট নেয়ামত, যা মানুষকে মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। কারন বিয়ের মাধ্যমেই মানুষ তার মনের চাহিদাগুলো পূরণ করার একটা বৈধ পথ খুঁজে পায় এবং এর ফলে সমাজে নৈতিক পবিত্রতা বজায় থাকে, যা একজন মুসলিমের ঈমানকে অনেক শক্তিশালি করে তোলে।
তাই, আপনাকে বিয়ের জন্য মন থেকে প্রস্তুত থাকা আর মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের জন্য এই বিয়ের মত পবিত্র সম্পর্কটা গড়া প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য একটা জুুরুরি কাজ। এ জন্য আমাদের উচিত এই পবিত্র ইবাদতটা সুন্দরভাবে পালন করার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং নিজের জীবনকে আল্লাহর বিধি বিধান মেনে চলার চেষ্টা করা। বিয়ে হলো আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর একটা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত, যা আমাদের মুসলিমদের এ থেকে কখেনো বিরত থাকা যাবে না।
নবীজি (সাঃ) বলেছেন, "বিয়ে আমার সুন্নত, আর যে আমার সুন্নত থেকে বিরত থাকবে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।" এই হাদিসের কঠিন হুশিয়ারি দেখায় যে, বিয়ের গুরুত্ব কত। মনে রাখবেন সুস্থ এবং পবিত্র একটা জীবন যাপনের জন্য আর চিরিত্রকে পবিত্রত রাখার জন্য ইসলামে বিয়েকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা সমাজে আপনার সম্মান বৃদ্ধি করে। যাদের শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য আছে, তাদের বিয়ের জন্য দেরি ও অন্য কোনা চিন্তা করা কোনো ভাবে উচিৎ নয়, বরং মহান আল্লাহ তায়ালার উপর ভরসা রাখা উচিত। আপনি বিয়ে করলে এর মধ্যমে যে মানসিক শান্তি আর সামাজিক নিরাপত্তা পাবেন তা আর অন্য কোনো উপায়ে পাওয়া সম্ভব না।
আপনার বিয়ে কার সঙ্গে হবে | সবকিছু জানেন আল্লাহ
বিয়ের কবে হবে কার সাথে বিয়ে হবে এটা নিয়ে চিন্তা করাটা স্বাভাবিক, তাই বিয়ে যেন আমাদের কে আল্লাহর ওপর ভরসা ও সঠিক জিবন যাপনে খারাপ কোন প্রভাবে না ফেলে। এই সময়য়ে আপনাকে আল্লাহ তায়ালার ইবাততে মনোযোগ দেওয়া ও হালাল ইনকাম করা এবং নিজের চরিত্র সুনন্দর করা হলো বিয়ের জন্য সুনন্দর প্রস্তুতি। এতে মহান আল্লাহ তায়ালা খুশি হয়। সব ধরনের কুসংস্কার বা ভাগ্য গণনার চেষ্টা থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকতে হবে, কারণ এগুলো আমাদের নষ্ট করে। আল্লাহর ওপর সম্পূর্ন ভরসা রেখে তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়াই হলো একজন মুমিনের আসল কাজ, আর তার ঠিক করে দেওয়া সময়টাই আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো।
আরো পড়ুনঃ গোলাপ জল মুখে কিভাবে ব্যবহার করব
ইসলামের মূল ভিত্তির একটা হলো তাকদীরের (ভাগ্য) এর ওপর বিশ্বাস রাখা, আর এটাই প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরি। কবে, কখন, কার সঙ্গে আপনার বিয়ে হবে, এই সবকিছুই শুধু মহান আল্লাহ তায়ালার জানেন। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টি করার ৫০ হাজার বছর আগেই লিখে রেখেছেন সবকিছু যেমন আপনার জন্ম, মৃত্যু, রিজিক (রোজগার) আর বিয়ে, সবই আল-লাওহুল মাহফুজ নামে একটা জায়গায় লিখে রেখেছেন। তাই, আমাদের উচিৎ হবে আমার বিয়ে কবে হবে বা কার সাথে হবে এ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে আল্লাহর ফয়সালা মেনে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা।
আল্লাহ তায়ালার প্রতিটি সিদ্ধান্তই আমাদের জন্য কল্যানকর হবে। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বারবার বলেছেন যে, অদৃশ্য বা ‘গায়েব’-এর জ্ঞান একমাত্র আমার কাছেই আছে, আর কোনো জ্যোতিষী বা গণকের পক্ষে সেই জ্ঞান দেওয়া সম্ভব না। এই জ্ঞান নিয়ে যারা মিথ্যা কথা বলে, তাদের কথা বিশ্বাস করলে আপনার ইমান নষ্ট হবে এবং এটা শিরকের (আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরিক করা) কাছাকাছি নিয়ে যায়। মুমিন হিসেবে আমাদের এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ যা ঠিক করেছেন, সেটাই হবে।আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) বারবার সতর্ক করেছেন যেন আমরা গণক বা জ্যোতিষীদের থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকি।
আল্লাহর পক্ষথেকে ঠিক করে দেওয়া বিয়ের সময়
আপনার বিয়ের সঠিক সময় কখন, তা আমরা কেউই জানি না। কিন্তু মুসলমান হিসেবে আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে, আল্লাহ তাআলাই আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো সময়ে বিয়ের মত পবিত্র বন্ধনের কাজটা সম্পন্ন করবেন। আল্লাহ তাআলা যখন কাউকে উত্তম স্ত্রী দিয়ে সম্মানিত করতে চান, তখন তিনি এর জন্য সঠিক পরিবেশ, মানসিক অবস্থা আর পরিস্থিতি বানিয়ে দেন, যা হয়তো আমরা এই মুহূর্তে বুঝতে পারছি না। আমরা হয়তো ভাবছি যে দেরি হয়ে যাচ্ছে বা সময় চলে যাচ্ছে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা হয়তো আমাদের জন্য আরও ভালো কোনো কিছুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেটা আমাদের ভাবনার চেয়েও অনেক উত্তম হতে পারে।
কোরআনে ধৈর্যকারীদের পুরস্কারের কথা বলা হয়েছে, তাই বিয়ের জন্য ধৈর্যের সাথে আল্লাহর ওপর পূর্ন ভরসা করে অপেক্ষা করা উচিত আর মনে কোনো হতাশা রাখা উচিত না। তারাহুরা করে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে একটা খারাপ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার চেয়ে আল্লাহর ঠিক করে দেওয়া সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা অনেক বেশি নিরাপদ। আমাদের উচিত এই অপেক্ষার সময়টাকে আল্লাহর ইবাদত আর নিজেকে আরও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কাজে লাগানো। বিয়েতে যদি কোনো কারণে দেরি হয়, তাহলে আপনি হতাশা গ্রস্থ না হয়ে ধৈর্য ধরুন আর বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে (ইস্তেগফার)। এটাই একজন মুসলিমের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
অনেক সময় দেখা যায়, আমাদের কোনো গুনাহের কারণে বা আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা করার জন্য বিয়ের পথ কিছুটা কঠিন করে দেন, তাই এই সময়ে আমাদের বেশি করে তওবা করতে হবে। হাদিসে আছে, "যে ব্যক্তি ইস্তেগফারকে নিজের জন্য আবশ্যক করে নেয়, আল্লাহ তাকে প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে দেন এবং তাকে এমনভাবে রিযিক দেন যা সে কল্পনাও করে না।" তাই, বেশি বেশি ইস্তেগফার আর দু'আর মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া উচিত, যেন তিনি বিয়ের পথ সহজ করে দেন আর আমাদের গুনাহ মাফ করেন। এই অপেক্ষার সময়টাকে আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্ক আরও গভীর করার একটা সুযোগ হিসেবে কাজে লাগান।
আপনার জিবন সঙ্গী কেমন হবে
আপনার জীবনসঙ্গী কেমন হবেন, তা জানার আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক। তবে ইসলামে সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তার ধর্মীয় গুণাবলী আর চরিত্রকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নবীজি (সাঃ)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন মেয়েকে তার সম্পদ, বংশ, সৌন্দর্য আর ধার্মিক গুন দেখে বিয়ে করা হয়, কিন্তু ধার্মিক গুন কে প্রাধান্য দিলেই জীবনে সফলতা নিশ্চিত। এই কথাটা শুধু মেয়েদের জন্য নয়, ছেলেদের জন্যও সমানভাবে কার্যকর কারণ একজন ধার্মিক গুনাবলি সঙ্গিনি দুনিয়া ও আখিরাত দুই জীবনেই আপনার জন্য অনেক উপকারী আর সহায়ক হবে।
ধার্মিক গুন মানে হলো আল্লাহকে ভয় করা, যা একজন মানুষকে উত্তম চরিত্র, ভালো কাজ আর আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলতে সাহায্য করে। আপনার স্ত্রীর ধার্মিক গুন যত বেশি হবে, আপনার দাম্পত্য জীবন তত বেশি শান্তিময় ও বরকতপূর্ণ হবে আর আপনাদের পারিবারিক পরিবেশ সুন্দর হবে। পার্থিব সৌন্দর্য বা সম্পদ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু দ্বীনদারী হলো চিরস্থায়ী ভিত্তি। জীবনসঙ্গী নির্বাচনের সময় ধার্মিক গুনাবলির পাশাপাশি তার উত্তম চরিত্র (আখলাক) আর ভালো কাজগুলোও (আমল) দেখা খুবই জরুরি।
উত্তম চরিত্র বলতে বোঝায়, স্ত্রী যেন বিনয়ী, দয়ালু, সৎ, ধৈর্যশীল হয়, যা দাম্পত্য জীবনে শান্তি নিয়ে আসে। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেছেন,
পবিত্র নারী পবিত্র পুরুষের জন্য আর পবিত্র পুরুষ পবিত্র নারীর জন্য, তাই উত্তম সঙ্গী পাওয়ার আগে আমাদের নিজেদেরকে উত্তম মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিয়ের আলোচনা চলার সময় সঙ্গীর আচার-আচরণ, তার পরিবারের পরিবেশ আর ধর্মীয় জ্ঞান সম্পর্কে ভালো করে খোঁজ নেওয়া উচিত। একজন উত্তম সঙ্গী আপনাকে সবসময় ভালো কাজে উৎসাহিত করবে, বিপদে সাহস যোগাবে এবং আপনার দুর্বলতার সময় পাশে থাকবে। তাই সঙ্গী নির্বাচনের সময় তার তাকওয়া আর চরিত্র দেখেই সন্তুষ্ট হওয়া উচিত।
বিয়ের জন্য মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি
বিয়ে একটা অনেক বড় দায়িত্ব, ইলামিক দিক থেকে পবিত্র বন্ধন বা সম্পর্ক তাই এই পবিত্র সম্পর্কে জড়ানোর আগে মানসিক, শারীরিক আর আর্থিকভাবে প্রস্তুত হওয়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্য খুবই জরুরি। মানসিক প্রস্তুতি মানে হলো, দাম্পত্য জীবনের দায়িত্বগুলো বোঝা, আর সেই দায়িত্ব পালনের জন্য মন থেকে প্রস্ততি নেওয়া। বিয়ে মানে শুধু একসাথে থাকা নয়, বরং এটা হলো একে অপরের জন্য পরিপুরক, ধৈর্য, সহনশীলতা আর সম্মান দেখানোর একটা মাধ্যম। আবেগ গতভাবে আপনি কতটা পারদর্শি, বা নতুন বন্ধনের চাপ সামলাতে পারবেন কিনা, সেই বিষয়ে নিজেকে নিজেই যাচাই করা খুব দরকার।
আরো পড়ুনঃ আলসার কিভাবে ভালো হয়
একজন ভালো মনের মানুষ হওয়া আর নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা বিয়ের প্রথম কাজ, কারন আপনার ভালো আচরণই আপনার বিবাহিত সংসারকে শান্তি দিবে। নিজের ভুল খুজে বের করে তা ঠিক করার জন্য চেষ্টা করা মানসিক ভাবে রেডি করার একটা বড় অংশ। শারীরিক প্রস্তুতির মানে হলো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা আর বিবাহিত জীবনের অধিকার আর দায়িত্বগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া। সুস্বাস্থ্য দাম্পত্য জীবনকে আরও সহজ আর আনন্দের করে তোলে, তাই নিয়মিত শরীরচর্চা করা আর পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের প্রতি কী কী অধিকার আর দায়িত্ব আছে, ইসলামে তাদের ভূমিকা কী, এই সব বিষয়ে সম্পুর্ন ধারণা থাকা দরকার, যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি না হয়।
মানসিক আর শরীরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি, একটা ভালো দাম্পত্য জীবনের জন্য টাকাপয়সার দরকার ও কিন্তু খুব জুরুরি। ইসলামে যদিও বউয়ের সব খরচ চালানোর মূল দায়িত্ব স্বামীর, তবুও বিয়ের আগে দুজনকেই নিজেদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে সঠিক আর পরিষ্কার ধারণা রাখা উচিত। ভবিষ্যতে কত খরচ হবে, কীভাবে টাকা জমানো হবে, আর যদি কোনো আর্থিক সমস্যা আসে, তাহলে কীভাবে সামলানো হবে, এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা দরকার। হাতে টাকা থাকলে মানসিক চাপ কমে, আর পরিবারে শান্তি বজায় রাখা সহজ হয়।
হালাল পন্থায় সঙ্গী খোজা ও পরিবারের মতামত
হালাল পন্থায় সঙ্গি খোজা আর পরিবারের মাধ্যমে কথাবার্তা বলা ইসলামে একটা বরকতপূর্ণ সম্পর্কের তৈরি করে। সঙ্গি খোজার সময় অবশ্যই পর্দার বিধান মেনে চলতে হবে আর যাদের সাথে বিয়ে করা বৈধ (গায়রে মাহরাম), তাদের সাথে কোন জুরুরি প্রয়োজন ছাড়া মিশে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বিয়ের আগে অবৈধ সম্পর্ক, ডেটিং, বা ওপেন মেলামেশা করা ইসলামে একেবারেই নিষেধ, কারণ এতে অনেক সমস্যা বা ফিতনা তৈরি হয়। যদি কাউকে পছন্দ হয়, তাহলে পরিবারের মাধ্যমে বা একজন বিশ্বস্ত ঘটক এর উপস্থিতিতে তার সাথে কথা বলার ব্যবস্থা করতে হবে।
এই সাক্ষাতের উদ্দেশ্য হবে একে অপরের ধর্মীয় জ্ঞান, চরিত্র আর মানসিকতা সম্পর্কে একটা ধারণা নেওয়া। সিঙ্গি খোজার পুরো ব্যপারটা যেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। পারিবারিক ভাবে হলে ইসলামে বিয়ে করার একটা গুরুত্বপূর্ণ আর বরকতময় পদ্ধতি। পরিবারের সদস্যরা আপনার জন্য উপযুক্ত সঙ্গি খুজতে আর তার পারিবারিক দিকটা সম্পর্কে সঠিক খোজ নিতে অনেক সাহায্য করতে পারে।
অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানের বিয়ের ব্যাপারে সহযোগিতা করা আর ধর্মীয় ভিত্তি দেখে তাদের ইচ্ছাকে সম্মান জানানো। পারিবারিক ভাবে আপনার বিয়ে হলে সেই সম্পর্কে আল্লাহর বরকত থাকে আর সামাজিকভাবেও সবাই ভালোবাসে। তবে, শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ছেলে-মেয়ে দু’জনকেই একে অপরের সাথে কথা বলে নিতে হবে। অভিভাবকদের উচিত টাকা-পয়সা বা সামাজিক স্ট্যাটাস না দেখে, বরং ধার্মিক আর উত্তম চরিত্রকে প্রধান্য দেওয়াটাই উত্তম।একজন বিশ্বস্ত ঘটক বা মুরুব্বির মাধ্যমেও সঙ্গি খোজা যেতে পারে, তবে তারা যেন অবশ্যই ধার্মিক ও সৎ হন।
বিয়ের পর , অধিকার ও দায়িত্ব
মনে রাখবেন বিয়ে শুধু প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক নয়, এটা মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে দেওয়া অনেক বড় নেয়ামত, দায়িত্ব আর অধিকারের একটা পবিত্র বন্ধন। এর প্রতি দায়িত্ব ও যত্নশীল হওয়া আমাদের কর্তব্য। ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের প্রতি কিছু অধিকার আর দায়িত্ব আছে, যা মেনে চলা জরুরি। স্বামীর ওপর স্ত্রীর ভরনপোষন ভালো বসবাসের স্থান আর তার সাথে সুন্দর ব্যবহার করার দায়িত্ব রয়েছে। আর স্ত্রীর ওপর স্বামীর প্রতি আনুগত্য এবং তার মান সম্মান রক্ষা করার দায়িত্ব রয়েছে। এই অধিকারগুলো বিবাহিত জিবনের সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে রাখা দরকার, যাতে কেউ কারো প্রতি কোনো জুলুম বা অবিচার না করে।
অধিকার আর কর্তব্যের মধ্যে একটা ভালো সমতা রেখে চললে দাম্পত্য জীবনে শান্তি আসে। এই দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করাও আল্লাহর কাছে একটা ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল আর দয়ালু হওয়া সুখী দাম্পত্য জীবনের ভিত্তি, যা কোরআনে বারবার বলা হয়েছে। নবীজি (সাঃ) তাঁর স্ত্রীদের প্রতি খুবই দয়ালু ছিলেন আর তিনি সব মুসলমানকেই তাদের স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিয়ের পর অধিকার আর দায়িত্ব পালন তো আছেই, তার সাথে মানসিক আর বিশ্বাসের দিক থেকে একজন আরেক জনকে সাহায্য করাটা একটা সুখের দাম্পত্য জীবনের জন্য খুবই দরকারি। নিজের জিবন সঙ্গির আবেগ, অনুভূতি আর দরকারগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া স্বামী-স্ত্রী দু'জনেরই কর্তব্য। দুঃখ-কষ্ট বা খারাপ সময়ে এক জন আরেক জনের পাশে থাকা, সাহস দেওয়া আর ভরসা দেওয়া এইগুলো সম্পর্কের গভিরতা আরও বাড়ায়। আবার, মানুষ হিসেবে ভুল তো হতেই পারে। তাই, কোনো কারণে ভুল বোঝাবুঝি হলে দেরি না করে, সরাসরি আর শান্তভাবে আলোচনা করে সেটা মিটিয়ে ফেলা উচিত।
আল্লাহকে ভয় করাই হলো দাম্পত্যের সুখের মূল চাবি
বিবাহিত জিবনসহ জিবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাকওয়া বা আল্লাহকে ভয় করার গুরুত্ব অনেক বেশি। এটিই সুখ, শান্তি আর বরকত পাওয়ার মূল চাবিকাঠি। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে চলে, আল্লাহ তার জন্য জীবনের কঠিন সব পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ বাহির করে দেন আর এমনভাবে রিজিক দেন যা সে ভাবতেও পারে না। তাকওয়া মানে শুধু ইবাদত করা নয়, এটা হলো জীবনের সব ক্ষেত্রে আল্লাহকে মনে রেখে চলা। তাকওয়া থাকলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিশ্বাস, ভালোবাসা আর সততা আরও বাড়ে, যা সংসারকে মজবুত করে। আল্লাহকে ভয় করা মানেই হলো সবসময় তার সন্তুষ্টির জন্য কাজ করা আর তার নিষেধ করা কাজ থেকে দূরে থাকা।
উত্তম জিবন সঙ্গি পাওয়াও আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা নিয়ামত, যা তাকওয়ার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আল্লাহকে ভয় করা আমাদের চরিত্রকে সুন্দর করতে সাহায্য করে, যা দাম্পত্য জীবনের জন্য খুবই কাজে লাগে। একজন আল্লাহভীরু মানুষ তার সঙ্গীর প্রতি সবসময় দয়ালু, বিনয়ি, সৎ আর ন্যায়পরায়ণ হয়। নবীজি (সাঃ) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম," আর আল্লাহকে ভয় করলে এই কথা মেনে চলা সহজ হয়।
বিয়ের আগে নিজেকে ভালো ভাবে গড়ে তোলা
ভালো জিবন সঙ্গী পাওয়ার জন্য সব ধরনের চেষ্টার পাশাপাশি নিজেকে একজন ভালো মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, পবিত্র নারী পবিত্র পুরুষের জন্য আর পবিত্র পুরুষ পবিত্র নারীর জন্য। তাই আপনি যদি একজন ভালো সঙ্গী চান, তাহলে সবার আগে নিজেকে ভালো ভাবে গড়ে তুলতে হবে। নিজের ইবাদত, আমল আর চরিত্রের ওপর মনোযোগ দিতে হবে। পাচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিকভাবে আদায় করুন, কোরআন পড়ুন আর তার অর্থ বোঝার চেষ্টা করুন। সৎ কাজ করা আর খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকা হলো নিজেকে উন্নত করার প্রথম ধাপ।
আপনার ভেতরের ভালো দিক আর দিনদ্বারি আপনার জন্য উপযুক্ত সঙ্গি এনে দেবে। নিজের খারাপ অভ্যাসগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো শুদরে নেওয়ার চেষ্টা করুন। রাগ, মিথ্যা বলা, অলসতা বা অন্য কোনো খারাপ অভ্যাস থাকলে তা দূর করার জন্য চেষ্টা করুন। একজন উত্তম সঙ্গি কখনোই এমন কাউকে চাইবেন না, যার চরিত্র ভালো না বা খারাপ। ধৈর্যের সাথে নিজের খারাপ ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং আল্লাহকে ভয় করা হলো নিজের উন্নতির চাবিকাঠি।
নিজেকে একজন ভালো মুসলমান হিসেবে তৈরি করার পাশাপাশি, বিয়ের আগে জ্ঞান অর্জন আর সামাজিক দায়িত্ব পালনের দিকেও নজর দেওয়া খুব দরকার। দাম্পত্য জীবন আর পারিবারিক নিয়ম কানুন যেমন, স্বামী স্ত্রীর কী কী অধিকার, তালাকের নিয়ম, ভরণপোষণ ইত্যাদি নিয়ে ইসলামিক জ্ঞান থাকাটা খুবই দরকারি। এই জ্ঞান থাকলে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো যায় এবং ইসলামের দেখানো পথে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখা যায়। এটা মনে রাখবেন, যিনি সমাজে দায়িত্বশীল আর জ্ঞানী, তিনি কিন্তু দাম্পত্য জীবনেও দায়িত্ব পালনে বেশি সক্ষম হন, আর তার জিবন সঙ্গিও এমন একজন স্বামীকে আশা করেন।
ভালো স্ত্রীর জন্য দোয়া-মুনাজাত করা আল্লাহর কাছে
জীবনের এত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দুয়ার মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া জরুরি। দুয়া হলো একজন মুসলমানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র, তাই আপনার বিয়ের সময় বা জীবনসঙ্গীর জন্য আল্লাহর কাছে সবসময় দুয়া করতে হবে। পবিত্র কোরআনের দুয়া হে প্রতিপালক আমার জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান- দান করুন, যারা আমার মন, চোখ শিতলকারি হবে এই দুয়াটা বেশি বেশি পরবেন।
আরো পড়ুনঃ ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া
তাহাজ্জুদের নামাজে আর দুয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সময়গুলোতে খুব বিনয়ের সাথে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন। দুয়া করার আগে আল্লাহর প্রশংসা আর নবীজি (সাঃ)-এর ওপর দুরুদ পরতে ভুলবেন না। এ ভাবে আল্লাহর কাছে চাইলে আল্লাহ অবশ্যই তার বান্দার দোয়া কবুর করবেন। কারণ কেউ যদি আল্লাহর কাছে মনথেকে তওবা করে কোন কিছূ চায় তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার সেই বান্দাকে ফিরিযে দেন না।
উপসংহারঃ আমার বিয়ে কবে হবে | আপনার বিয়ে কার সঙ্গে হবে
এই পোস্টে আমরা বিয়ে নিয়ে মনে আসা আমার বিয়ে কবে হবে, এই স্বাভাবিক প্রশ্নটির ইসলামী সমাধান খুজেছি। মূল কথা হলো, বিয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক পবিত্র বন্ধন ও ইবাদত, যা ঈমানের অর্ধেক পূর্ন করে এবং মানসিক শান্তি আনে। তবে, বিয়ে কখন কার সাথে হবে, তা একমাত্র আল্লাহর ভালো জানেন, তাই এ নিয়ে চিন্তা না করে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই ভালো। সঠিক জিবন সঙ্গি পেতে আমাদের নিজেকে ধার্মিক ও উত্তম চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, কারন ভালোর জন্যই ভালো সঙ্গি। মানসিক, শারীরিক ও আর্থিকভাবে প্রস্তুত হয়ে হালাল পন্থায় সঙ্গি খুজে নিতে হবে।
আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে হতাশ হয়ে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। বরং এই অপেক্ষার সময়টাকে নিজেকে আরও ভালোভাবে গড়ে তোলার কাজে লাগানো সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখবেন, আল্লাহ তায়ালা তার বান্দার জন্য কখনোই খারাপ কিছু চান না। আমরা হয়তো ভাবি দেরি হচ্ছে, কিন্তু আল্লাহ হয়তো আমাদের জন্য আরও উত্তম কোনো কিছুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাই ধৈর্য ধরুন,নিশ্চই আল্লাহ তায়ালা আপনাকে একজন ভালো স্ত্রী উপহার দিবেন।



সার্ভিস আইটির নিয়ম মেনে কমেন্ট করুন প্রত্যেকটা কমেন্টের রিভিউ করা হয়।
comment url