দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায় - দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর উপায়

পেটে অতিরিক্ত গ্যাস হলে করণীয় কিদ্রুত হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায় জানতে চান, আপনার হাই প্রেসার দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে চান? আজ আমরা এই পোস্টে জানিয়ে, দিব কিভাবে খুব সহজে এবং সম্পূর্ণ ঘরোয়া উপায়ে রক্তচাপ কমানো যায়। 
দ্রুত-হাই-প্রেসার-কমানোর-ঘরোয়া-উপায়
ওষুধ না খেয়েও ভালো থাকতে তাড়াতাড়ি প্রেসার কমানোর সহজ টিপস আর প্রাকৃতিক সমাধানগুলো এখুনি জেনে নিন। জানতে হলে সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়তে থাকুন।

পোস্ট সূচীপত্রঃ দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায় 

দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায়

দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায় হালো আমাদের জীবনযাত্রার কিছু সহজ পরিবর্তনের মাধ্যমে এবং ঘরোয়া উপায়ে এর মাত্রা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে। গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম হাই প্রেসার কমানোর একটি দ্রুত কার্যকর উপায়। এটি মানসিক চাপ কমিয়ে রক্তনালীকে শিথিল করতে সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাপনার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা খুব প্রয়োজন, যা রক্তকে পাতলা রাখতে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন কলা, মিষ্টি আলু এবং পালং শাক খেলে শরীরে সোডিয়ামের প্রভাব হ্রাস পায়, যা রক্তচাপ কমাতে দ্রুত কাজ করে। এছাড়াও, আঁশযুক্ত খাবার যেমন ওটস বা ফল খাওয়া রক্তচাপ কমাতে এবং হার্টকে সুস্থ রাখতে খুব ভালো কাজ করে। নিয়মিত হালকা হাঁটা বা যেকোনো ধরনের শারীরিক ব্যয়াম রক্তনালীকে নরম করে এবং প্রেসার কমাতে খুব দ্রুত সাহায্য করে। আমাদের প্রতি দিনের লাইফ স্টাইলে কিছু নির্দিষ্ট ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার দ্রুত হাই প্রেসার কমানো সম্ভব।

তবে যেকোনো পদক্ষেপের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একটি চমৎকার ঘরোয়া প্রতিকার হলো রসুন খাওয়া, কারণ এর মধ্যে থাকা উপাদানগুলো রক্তনালীকে প্রসারিত করে এবং রক্তকে পাতলা করে রক্তচাপ দ্রুত হ্রাস করতে সহায়ক। লেবুর রস পান করা শরীরের অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করে দিতে সাহায্য করে, যা রক্তচাপের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গরম পানি এক চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে পান করলে তা রক্তনালীকে শিথিল করে এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

প্রাকৃতিক উপায়ে ব্লাড প্রেশার কন্ট্রোল

টেনশন বা হঠাৎ মানসিক চাপ বাড়লে দ্রুত প্রেসার বেড়ে যায়, কারণ এই সময় হৃদযন্ত্রের গতি বেড়ে যায় এবং রক্তনালী সংকুচিত হয়। তাই, প্রথমত আমাদের নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত করা দরকার, যা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেই সম্ভব। এই কৌশল প্রাকৃতিক উপায়ে ব্লাড প্রেশার কন্ট্রোল করার একটা সহজ রাস্তা। তাই আপনি মানসিক টেনশনে পরলে দীর্ঘ শ্বাস নিন এতে আপনার হাই প্রেসার কমতে পারে।


এর জন্য একটি নিরিবিলি পরিবেশে আরামে বসুন। নাক দিয়ে আস্তে আস্তে ৬ সেকেন্ড ধরে লম্বা শ্বাস নিন, ২ সেকেন্ড ধরে রাখুন, আর মুখ দিয়ে আরও ৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। এভাবে ৫ থেকে ১০ মিনিট অনুশীলন করুন। এটা করলে রক্তনালী দ্রুত শিথিল হয় এবং হার্টের ওপর চাপ কমে আসে। এতে প্রেসারের সম্ভবনা কম থাকে।

 হাই প্রেসার কমাতে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার

শরীরে পটাশিয়াম আর ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি থাকলে হাই প্রেসার বাড়তে পারে, কারণ এই খনিজগুলো শরীরে থাকা অতিরিক্ত নুন এর নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে দেয়। এই খনিজগুলো রক্তনালীকে রিল্যাক্সড রাখতে এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করে দিতে খুব ভালো কাজ করে। এই খাবারগুলো হাই প্রেসার কমানোর খাদ্য হিসেবে খুব পরিচিত। তাই হাই প্রেসার কমাতে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম খাবার খান।

যখনই প্রেসার বেশি মনে হবে, সঙ্গে সঙ্গে একটা কলা বা কয়েকটা কাঠবাদাম খেয়ে নিন। কলাতে থাকে পটাশিয়াম ও বাদামে আছে ম্যাগনেসিয়াম এটা দ্রুত প্রেসারকে কমানোর প্রাথমিক চেষ্টা হিসেবে কাজ করে। পটাশিয়াম আর ম্যাগনেসিয়ামের এই ভারসাম্য রক্তচাপ কমাতে দ্রুত সাহায্য করে।

প্রেসার কমানোর জরুরি টিপস পর্যাপ্ত পানি পান

পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের কারণে শরীরের রক্তের পরিমাণ কমে যায়, ফলে হার্টকে আরও দ্রুত এবং জোরে রক্ত পাম্প করতে হয়। এর ফলে রক্তনালীর বলপ্রায়োগ কমে যেতে পারে এবং রক্তচাপ বেড়ে যায়। তাই শরীররে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখা এই ক্ষেত্রে খুব জরুরি। সেক্ষেত্রে আমাদের উচিৎ পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা।
দ্রুত-হাই-প্রেসার-কমানোর-ঘরোয়া-উপায়
প্রেসার কমানোর জরুরি টিপস হিসেবে মনে রাখুন, হঠাৎ হাই প্রেসার বাড়লে সঙ্গে সঙ্গে বড় এক গ্লাস পানি পান করুন। পানি পান রক্ত প্রবাহকে স্বাভাবিক করতে এবং রক্তনালীকে নমনীয় করতে কিছুটা সাহায্য করে। এটা পানিশূণ্যতার চাপ কমাতে খুব সহায়ক।

প্রাকৃতিক উপায়ে প্রেসার কমাতে লেবুর পানি ও রসুন

লেবুতে থাকা ভিটামিন সি রক্তনালীকে শক্তিশালী করে এবং একটা প্রাকৃতিক ইউরিনেটিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে রসুনে থাকা অ্যালিসিন নামক যৌগটি পরিচিত, যা নাইট্রিক অক্সাইড উৎপাদন বাড়িয়ে রক্তনালীকে চওড়া বা প্রসারিত করে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এই দুটো উপাদানই প্রাকৃতিক উপায়ে প্রেসার কমানোর জন্য দারুণ। তাই হাই প্রেসার কামাতে লেবু পানি ও রসুন অনেক কার্যকরী।


এক গ্লাস হালকা গরম পানি অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন লবন বা চিনি দিবেন না। এটা প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করে দিতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি, কাঁচা রসুনের ১-২ কোয়া চিবিয়ে বা গিলে খাওয়াও প্রেসার কমানোর একটা পুরোনো ও কার্যকরী টোটকা। এই নিয়মে আপনি লেবু ও রসুন খেতে পারলে হাই প্রেসার কমাতে অনেক কাজে আসবে।

হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া টোটকা চা ও কফি এরিয়ে চলা

ক্যাফেইন এবং অতিরিক্ত সোডিয়াম হলো এমন দুটো উপাদান, যা দ্রুত রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। ক্যাফেইন হার্ট রেট বাড়ায় এবং সোডিয়াম বা নুন শরীরে পানি ধরে রেখে রক্তনালীর উপর চাপ বাড়িয়ে তোলে। তাই এই সময় এগুলো পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হবে। এসব এড়িয়ে চললে আপনার হাই প্রেসার কমাতে সহায়ক হবে।

রক্তচাপ বাড়লে সঙ্গে সঙ্গে কফি, চা, সোডা এবং বেশি নুন দেওয়া চিপস, ফাস্ট ফুড বা আচার খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিন। তাৎক্ষণিক হাই ব্লাড প্রেসার কমানোর ঘরোয়া টোটকা হিসেবে এই দুটো ক্ষতিকর উপাদান এড়িয়ে চলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতে করে আপনার হাই প্রেসার অনেক হারে কমতে পারে।

হাই প্রেসারের লক্ষণ

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনকে সাধারণত 'নীরব ঘাতক' বলা হয়, কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো সুস্পষ্ট বা গুরুতর লক্ষণ দেখা যায় না। রক্তচাপ সামান্য বেশি থাকলেও রোগী সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অনুভব করতে পারেন। তবে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা অন্য কোনো কারণে ডাক্তার দেখানো হলে এটি ধরা পড়তে পারে। এই নীরবতা উচ্চ রক্তচাপকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে, কারণ চিকিৎসা শুরু না হলে শরীরের ভিতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি হতে থাকে।


তবে যখন রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় বা একে 'হাইপারটেনসিভ ক্রাইসিস' বলা হয়, তখন কিছু গুরুতর লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে তীব্র মাথাব্যথা, যা সাধারণত মাথার পেছনের দিকে অনুভূত হয়, মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম করা, বুকে ধড়ফড় করা, এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হওয়া। কিছু ক্ষেত্রে, দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসা বা নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতো লক্ষণও দেখা যেতে পারে। এই ধরনের লক্ষণগুলো দেখা গেলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

হঠাৎ হাই প্রেসার হলে করণীয়

যদি আপনার বা আপনার পরিচিত কারও হঠাৎ রক্তচাপ বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে যায় এবং তার সাথে তীব্র মাথাব্যথা, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা যায়, তবে এটিকে মেডিকেল এমার্জেন্সি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। প্রথম এবং প্রধান করণীয় হলো কোনো রকম দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে যাওয়া। এই পরিস্থিতিতে আত্ম-চিকিৎসা বা অন্য কোনো ঘরোয়া প্রতিকার খোঁজা বিপজ্জনক হতে পারে।

এই অবস্থায় রোগীর মানসিক চাপ কমানো খুব জরুরি, কারণ অতিরিক্ত উদ্বেগ রক্তচাপকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই রোগীকে শান্ত ও আরামদায়কভাবে শুয়ে বা বসে থাকার পরামর্শ দিন। যদি রোগী ইতিমধ্যেই উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সেবন করেন, তবে ডাক্তারের নির্দেশ অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নিন। মনে রাখবেন, হঠাৎ রক্তচাপ কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নতুন কোনো ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।

হাই প্রেসারের কারণ

উচ্চ রক্তচাপের নির্দিষ্ট কোনো একক কারণ সবসময় খুঁজে পাওয়া যায় না, একে এসেনশিয়াল হাইপারটেনশন বলা হয়। তবে অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা এই অবস্থার অন্যতম প্রধান কারণ। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত লবণ বা সোডিয়ামযুক্ত খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত শারীরিক ব্যায়ামের অভাব, এবং শরীরের অতিরিক্ত ওজন। এছাড়া ধূমপান এবং অতিরিক্ত পরিমাণে অ্যালকোহল সেবন রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে রক্তচাপ বাড়াতে পারে।
দ্রুত-হাই-প্রেসার-কমানোর-ঘরোয়া-উপায়
এছাড়াও, কিছু শারীরিক ও বংশগত কারণও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে রক্তনালীগুলো শক্ত হয়ে যায়, ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ে। পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ এবং থাইরয়েডের মতো কিছু স্বাস্থ্য সমস্যাও সেকেন্ডারি হাইপারটেনশনের কারণ হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপও ভিতর থেকে রক্তচাপ বাড়াতে সহায়ক।

হাই প্রেসার কমানোর উপায়

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনযাত্রায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। এর মধ্যে অন্যতম হলো স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা। এই খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য এবং কম ফ্যাটযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা প্রাকৃতিকভাবে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে, দৈনিক লবণের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

ঔষধ ছাড়া হাই প্রেসার কমানোর অন্য গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ। সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট মাঝারি মানের অ্যারোবিক ব্যায়াম যেমন, দ্রুত হাঁটা বা ৭৫ মিনিট জোরালো ব্যায়াম করা প্রয়োজন। শারীরিক কার্যকলাপ রক্তনালীকে সুস্থ রাখে এবং হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায়। এছাড়াও, ধূমপান সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করা, অ্যালকোহল সেবন সীমিত করা এবং নিয়মিত যোগা বা মেডিটেশনের মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানো রক্তচাপ হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হাই প্রেসার হলে কি কি খাওয়া যাবে না

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবচেয়ে বেশি বর্জনীয় হলো অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণযুক্ত খাবার। প্যাকেটজাত খাবার, প্রক্রিয়াজাত মাংস ক্যানড স্যুপ, ফাস্ট ফুড এবং বিভিন্ন সস ও চিপস-এর মতো খাবারে লবণের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে, যা রক্তচাপকে দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। তাই এই ধরনের খাবারগুলো পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হবে এবং রান্নায়ও লবণের ব্যবহার কমিয়ে দিতে হবে।

এছাড়া, স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো রক্তনালীতে চর্বি জমাতে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। গভীর তেলে ভাজা খাবার এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় যেমন সোডা বা মিষ্টি শরবতও বর্জন করা উচিত। চিনিযুক্ত পানীয়গুলো ওজন বাড়ায়, যা পরোক্ষভাবে রক্তচাপ বাড়ানোর কারণ হতে পারে।

সজনে পাতা খেলে কি হাই প্রেসার কমে

ঐতিহ্যগতভাবে অনেক সংস্কৃতিতে সজনে পাতাকে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের একটি প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং এর কিছু বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও রয়েছে। সজনে পাতায় পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-এর মতো উপাদান থাকে। এই উপাদানগুলো রক্তনালীকে শিথিল করে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং শরীরের প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন কমিয়ে হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষা দেয়।

তবে এটা মনে রাখা জরুরি যে সজনে পাতা একটি পুষ্টিকর খাবার বা সম্পূরক হিসেবে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু এটি উচ্চ রক্তচাপের জন্য নির্ধারিত ওষুধের বিকল্প নয়। আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে, তবে চিকিৎসার প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত ডাক্তারের পরামর্শ দেওয়া ওষুধ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন। সজনে পাতা বা এর গুঁড়ো খাদ্যতালিকায় যোগ করার আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত, যাতে এটি আপনার চলমান চিকিৎসার সাথে কোনোভাবে সাংঘর্ষিক না হয়।

উপসংহারঃ দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায়

আজ আমরা এই পোস্টের মাধ্যমে জানতে পারলাম, দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায় ও দরকারি কিছু টিপস। গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করে টেনশন কমানো, কলা বা কাঠবাদামের মতো পটাসিয়াম আর ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া এবং ঠিকমতো পানি পান করা প্রেসার তাড়াতাড়ি নামাতে সাহায্য করে। এছাড়া, রসুন ও লেবুর জল রক্তনালীকে আরাম দেয় এবং নুনের প্রভাব কমায়। কিন্তু চা-কফি আর বেশি নুন দেওয়া খাবার অবশ্যই বাদ দিতে হবে। তবে একটা কথা মাথায় রাখবেন, যদি হঠাৎ খুব বাড়াবাড়ি হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার কাছে বা হাসপাতালে যেতে হবে।

আমার মতে, এই ঘরোয়া উপায়গুলো আপনার চিকিৎসার পাশাপাশি সাহায্য করবে, কিন্তু এগুলোই প্রধান চিকিৎসা নয়। হাই প্রেসারকে কমিয়ে আনতে হলে ডাক্তারের ওষুধ খাওয়া, নিয়মিত প্রেসার মাপা আর লাইফ স্টাইলে পরিবর্তন আনাটা সবচেয়ে জরুরি। এই টিপসগুলো মেনে চলার চেষ্টা করুন, কিন্তু যেকোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে নেবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সার্ভিস আইটির নিয়ম মেনে কমেন্ট করুন প্রত্যেকটা কমেন্টের রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Sanjid Ali
Md. Sanjid Ali
একজন ব্লগার/কন্টেন্ট লেখক। আধুনিক জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও জ্ঞান নিয়ে আমরা হাজির হয়েছি। এখানে আপনি অনলাইন ইনকামের নানা কৌশল, স্বাস্থ্য,চিকিৎসা, রুপচর্চা বর্তমান লাইফস্টাইল সম্পর্কিত টিপস, এবং প্রযুক্তি ও ব্লগিং-এর অজানা দিকগুলো জানতে পারবেন।