মহিলাদের ওমরা পালনের নিয়ম

আরবি মাসের ক্যালেন্ডার ২০২৬আজ আমরা এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাকে জানিযে দিব মহিলাদের ওমরা পালনের নিয়ম পোশাক, ইহরাম, পর্দার বিশেষ বিধান। তাওয়াফ, সাঈ করার সময় কী কী নিয়ম মানতে হবে, এবং রমল না করার কারণ কী? মাসিকের সময় করণীয় কী? 
মহিলাদের-ওমরা-পালনের-নিয়ম
কখন চুল কেটে ইহরাম থেকে হালাল হবেন, জানুন সেই সঠিক পদ্ধতি। মাহরাম ছাড়া ওমরাহ করার বর্তমান পরিস্থিতি ও নির্ভরযোগ্য আলেমদের পরামর্শ। ওমরা পালনের সকল নিয়ম কানুন জানতে সম্পূর্ণ পোস্ট পড়ুন।

পোস্ট সূচীপত্রঃ মহিলাদের ওমরা পালনের নিয়ম

মহিলাদের ওমরাহ পালনের নিয়ম

মহিলাদের ওমরা পালনের নিয়ম পুরুষদের মতোই প্রায় সব নিয়ম মানতে হয়, তবে পোশাক এবং বিশেষ কিছু শারীরিক অবস্থার ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য আছে। ইহরামের সময় মহিলারা সেলাইবিহীন সাদা কাপড় না পরে, শালীন ও ঢিলেঢালা পোশাক পরেন যা দিয়ে পুরো শরীর ঢাকা থাকে। মুখ ঢাকা বা না ঢাকার বিষয়ে ভিন্ন মত থাকলেও, এখন বেশিরভাগ আলেম জনসম্মুখে মুখ খোলা রাখার অনুমতি দেন। তবে ইহরাম অবস্থায় মহিলারা হাতমোজা বা নেকাব ব্যবহার করতে পারবেন না। ওমরার বাকি কাজগুলো যেমন - তাওয়াফ, সা'ঈ এবং চুল কাটার ক্ষেত্রে মহিলারা পুরুষদের মতোই নিয়ম মানতে হবে। 

তাওয়াফের সময় (কাবার চারপাশে সাতবার ঘোরা) পুরুষদের মতো দ্রুত হাঁটা মহিলাদের জন্য প্রযোজ্য নয়। তাওয়াফ ও সাঈ দুটোতেই তারা স্বাভাবিক গতিতে হাটতে হবে। ওমরাহ শেষ করার সময় চুল কাটার বেলায় মহিলারা চুলের ডগা থেকে এক আঙুলের গাঁটের পরিমাণ বা তার থেকেও একটু কম চুল কাটেন, সাধারণত চুলের একটি গোছা থেকে কাটা হয়। মাসিক কালিন মহিলারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত ইহরাম বাঁধলেও তাওয়াফ শুরু করতে পারেন না।

হজ্জে মহিলাদের পর্দা

হজ্জ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং এই মহা ইবাদতের সময় মহিলাদের পর্দার বিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে, মহিলাদের জন্য মাহরাম (যার সাথে বিবাহ বৈধ নয় এমন নিকটাত্মীয়) ব্যতীত অন্য পুরুষের সামনে মুখমণ্ডল ও হাত সহ সম্পূর্ণ শরীর ঢেকে রাখা আবশ্যক। তবে হজ্জ বা উমরা পালনের সময় ইহরামের বিশেষ অবস্থায় কিছু পরিবর্তন আসে। ইহরামের সময় মহিলারা মুখমণ্ডল ঢাকার জন্য নেকাব ব্যবহার করতে পারবেন না, এমনকি হাত মোজাও পরতে পারবেন না—এটি রাসূল (সা.) এর সুস্পষ্ট নির্দেশ। এই সময়ে মুখমণ্ডল খোলা রাখা পর্দার বিধান লঙ্ঘন করে না, বরং এটি ইবাদতের একটি অংশ।


তবে, মুখমণ্ডল খোলা রাখার এই নির্দেশ কেবল ইহরামের অবস্থার জন্যই প্রযোজ্য। এর মানে এই নয় যে, তারা সর্বসাধারণের সামনে নিজেদের চেহারা উন্মুক্ত রাখবেন। যখন কোনো গায়রে-মাহরাম (যার সাথে বিবাহ বৈধ) পুরুষ তাদের সামনে চলে আসে, তখন তারা ওড়না বা চাদর দিয়ে মুখমণ্ডল ঢেকে নেবেন, তবে তা যেন মুখের সাথে লেগে না থাকে। অর্থাৎ, মাথার দিক থেকে চাদর ঝুলিয়ে দিয়ে চেহারা আবৃত করতে হবে। এই বিশেষ বিধানটি কেবল হজ্জের ভিড় এবং ইহরামের পবিত্রতার সাথে সম্পর্কিত।

মহিলাদের জন্য ওমরাহর ইহরাম, পোশাক, নিয়তের বিশেষ নিয়ম

মহিলাদের ওমরা পালনের নিয়ম এর প্রথম ধাপ হলো ইহরাম, যার জন্য নিয়ত করা আর নির্দিষ্ট পোশাক পরাটা খুব দরকারি। পুরুষদের মতো সেলাই ছাড়া সাদা কাপড় মেয়েদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। বরং তাঁরা নিজেদের শালীন, ঢিলেঢালা, আর পুরো শরীর ঢাকা পোশাক পরবেন, যা খুব জমকালো বা চোখে পড়ার মতো হওয়া উচিত নয়। ইহরামের সময় নেকাব, হাত মোজা, কোনো সুগন্ধি বা মেকআপ ব্যবহার করা পুরোপুরি মানা।

ইহরামের জন্য প্রস্তুতি হিসেবে গোসল বা ওযু করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়তে হয়। এরপর মুখে বা মনে মনে ওমরাহ করার নিয়ত করে জোর গলায় তালবিয়া পড়া শুরু করতে হয়। মক্কা শরীফে পৌঁছে তাওয়াফ শুরু করার আগ পর্যন্ত এই তালবিয়া পড়া চালু রাখতে হবে। নিয়ত করার মাধ্যমে মহিলারা ওমরাহর জন্য ইহরামের সব নিয়মের অধীনে চলে আসেন।

মাসিকের সময় মহিলাদের ওমরাহ পালনের বিধি আর কী করতে হবে

মেয়েদের ওমরাহ পালনের সময় মাসিকের বিষয়টি খুব জরুরি একটা মাসআলা। মাসিক চলাকালীন মহিলারা কাবা শরীফের তাওয়াফ করতে পারবেন না, কারণ তাওয়াফের জন্য একদম পবিত্র থাকাটা দরকার। তবে তাঁরা ইহরামের নিয়ত করতে পারেন এবং মসজিদে হারামের বাইরে থাকতে পারেন। এই সময় তাঁরা আল্লাহর কাছে দোয়া-দরুদ ও যিকির করতে পারবেন।
মহিলাদের-ওমরা-পালনের-নিয়ম
যদি কোনো মহিলা মক্কায় পৌঁছানোর পর মাসিকে আক্রান্ত হন, তাহলে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে তাওয়াফের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। পবিত্র হওয়ার পর গোসল করে তাওয়াফ শেষ করলেই তাঁদের ওমরাহ পূর্ণ হবে। তবে মাসিক অবস্থায় তাঁরা সাঈ (সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মাঝে হাঁটা) করতে পারেন, কারণ সাঈয়ের জন্য তাওয়াফের মতো পুরোপুরি পবিত্রতা জরুরি নয়।

তাওয়াফ আর সাঈতে মহিলাদের হাঁটা ও দৌড়ানোর নিয়ম

তাওয়াফ ও সাঈ করার সময় মহিলাদের কিছু ক্ষেত্রে পুরুষদের থেকে আলাদা নিয়ম মানতে হয়। পুরুষরা তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে কাঁধ দুলিয়ে দ্রুত হাঁটেন বা হালকা দৌড়ান (রমল), কিন্তু মহিলারা তাওয়াফের কোনো চক্করেই রমল করবেন না। তাঁরা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক গতিতে হেঁটে যাবেন। ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি এড়িয়ে চলাই ভালো।


একইভাবে, সাফা আর মারওয়ার মাঝে সবুজ চিহ্নিত জায়গায় পুরুষদের একটু দ্রুত হাঁটতে হলেও, মহিলারা সেখানে দৌড়াবেন না। তাঁরা এই অংশটাও স্বাভাবিকভাবে হেঁটে পার হবেন। তাওয়াফ আর সাঈ উভয় ক্ষেত্রেই ভিড়ের মধ্যে পর্দা বজায় রাখা আর নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা মেয়েদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ওমরাহ শেষে মহিলাদের চুল ছোট করার নিয়ম

ওমরাহর শেষ কাজটা হলো তাহল্লুল, যার মানে হলো ইহরামের সব বাধা থেকে মুক্তি পাওয়া। সাঈ শেষ করার পরই এই কাজটা করতে হয়। পুরুষরা মাথা ন্যাড়া করেন বা চুল ছোট করেন, কিন্তু মহিলাদের মাথা ন্যাড়া করা বা মুণ্ডন করা একেবারে মানা। চুল ছোট করার জন্য তাঁদের বিশেষ নিয়ম মানতে হয়।

মহিলারা তাঁদের চুলের শেষ প্রান্ত থেকে এক আঙুলের ডগার পরিমাণ (প্রায় এক ইঞ্চি) চুল কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলবেন। এইটুকু চুল ছোট করার পরই তাঁদের ওমরাহ পুরোপুরি শেষ হয়। এই কাজটা নিজেদের বা মাহরামের মাধ্যমে করিয়ে নেওয়ার পর ইহরামের সব নিষেধাজ্ঞা উঠে যায় এবং তাঁরা স্বাভাবিক পোশাকে ফিরে যেতে পারেন।

মহিলাদের ওমরাহ যাত্রায় মাহরামের দরকার আর এখনকার পরিস্থিতি

ইসলামী শরীয়তের সাধারণ নিয়ম হলো, কোনো মহিলাকে মাহরাম (যেমন: স্বামী, বাবা, ভাই, ছেলে) ছাড়া একা দূরে কোথাও সফর করা উচিত নয়। মাহরাম থাকলে মেয়েদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় নিয়ম মানা সহজ হয়। তবে সম্প্রতি সৌদি সরকার মাহরাম ছাড়াই মহিলাদের ওমরাহ করার অনুমতি দিয়েছে।


এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে একা ওমরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের দেশের নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতিদের সাথে আলোচনা করে নেওয়া দরকার। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় বিধি-বিধানের দিকটা ভালোভাবে বিবেচনা করে ওমরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
ওমরাহ কাদের জন্য ফরজ এবং মাহরাম কেন জরুরি

ওমরাহ করা কখন ফরজ বা ওয়াজিব হয়, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ থাকলেও, সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য জীবনে একবার ওমরাহ করাটা খুব জরুরি। মহিলাদের ক্ষেত্রে সামর্থ্যের সংজ্ঞায় কিছু অতিরিক্ত শর্ত যোগ হয়, যা পুরুষের থেকে আলাদা।

অতিরিক্ত শর্ত এবং মাহরামের ব্যাপারটাঃ-

মহিলার ওপর হজ বা ওমরাহ ফরজ হওয়ার জন্য টাকা-পয়সা ও শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি সবচেয়ে জরুরি শর্ত হলো মাহরামের উপস্থিতি। মাহরাম বলতে সেই পুরুষকে বোঝানো হয়, যার সঙ্গে সেই মহিলার বিয়ে করা চিরতরে হারাম (যেমন বাবা, ভাই, ছেলে, শ্বশুর, মামা, চাচা ইত্যাদি)। নবী (সা.) পরিষ্কারভাবে বলে গেছেন, মাহরাম ছাড়া কোনো মহিলা যেন লম্বা সফরে না যান। এই নিয়মটা মহিলাদের নিরাপত্তা, সম্মান এবং খারাপ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করার জন্য দেওয়া হয়েছে। যদি স্বামীর সঙ্গে বিয়ে বহাল থাকে, তাহলে স্বামীই হবেন মাহরাম।

আর্থিক সামর্থ্যের ক্ষেত্রে মহিলাকে শুধু নিজের খরচ বহন করলেই চলে না, বরং তাঁর মাহরাম পুরুষটির (যদি তিনি নিজের খরচে ওমরাহ করতে না পারেন) যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার সব খরচও বহন করার ক্ষমতা থাকতে হবে। যদি অন্য সব শর্ত পূরণ হওয়ার পরও মাহরামের খরচ বহন করার ক্ষমতা না থাকে, তবে তাঁর ওপর ওমরাহ ফরজ হবে না।
ইহরাম ও প্রস্তুতি পোশাক, নিয়ত এবং তালবিয়া

ওমরাহ করার প্রথম ফরজ ধাপ হলো ইহরাম, যা মিকাত নামের নির্দিষ্ট জায়গা থেকে শুরু করতে হয়।

ইহরামের আগের প্রস্তুতি ও মহিলাদের পোশাকঃ
ওমরাহর নিয়ত করার আগে মহিলাদের কিছু প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। এর মধ্যে রয়েছে শরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা (যেমন চুল, নখ ও অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করা) এবং গোসল করা। গোসল করার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা হয়। তবে ইহরামের পোশাকে বা শরীরে কোনো ধরনের সুগন্ধি (আতর) ব্যবহার করা মহিলাদের জন্য উচিত নয়।
মহিলাদের-ওমরা-পালনের-নিয়ম
পুরুষদের জন্য ইহরামে সেলাই ছাড়া সাদা কাপড় নির্দিষ্ট, কিন্তু মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো পোশাক নেই। তাঁদের স্বাভাবিক শালীন পোশাকই ইহরামের পোশাক। পোশাক অবশ্যই ঢিলেঢালা, পুরো শরীর ঢাকা এবং এমন রঙের হতে হবে, যাতে পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণ না করে। টাইট বা ঝলমলে পোশাক পরা একদমই উচিত নয়। শাড়ি না পরে সালোয়ার-কামিজ বা এমন কোনো পোশাক পরা ভালো, যা চলতে সুবিধা দেয় এবং পর্দা বজায় রাখে।

মিকাত, নিয়ত, তালবিয়া ও পর্দার নিয়ম

মিকাত হলো সেই নির্দিষ্ট স্থান, যেখান থেকে ওমরাহ বা হজের নিয়ত করে ইহরাম বাঁধতে হয়। বিমানযাত্রার ক্ষেত্রে মিকাত পার হওয়ার আগেই নিয়ত করতে হয়। মিকাত পার হওয়ার পর নিয়ত করলে 'দম' (পশু কুরবানী) ওয়াজিব হতে পারে। মহিলারা মনে মনে ওমরাহ পালনের নিয়ত করবেন, জোরে উচ্চারণ করবেন না।

নিয়ত করার সাথে সাথেই তালবিয়া পাঠ করা শুরু করতে হবে। তালবিয়াটি হলোঃ

(লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক ইন্নাল হামদা ওয়ান নিয়ামাতা লাকা ওয়াল মুলক লা শারিকা লাক।)

মহিলারা নিচু স্বরে বা মনে মনে তালবিয়া পাঠ করবেন, পুরুষদের মতো জোরে নয়। ইহরাম অবস্থায় মহিলার জন্য নিকাব বা হাত মোজা পরা নিষেধ। তবে, কোনো গাইরে মাহরাম পুরুষ সামনে এলে তাঁরা মাথা থেকে চাদর বা ওড়নার আঁচল টেনে মুখ ঢেকে নেবেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যেন কাপড় মুখের চামড়ার সাথে সরাসরি লেগে না যায়।

তাওয়াফ কাবা শরীফ প্রদক্ষিণ

ইহরাম করার পর মক্কায় পৌঁছে প্রথম কাজ হলো কাবা শরীফ তাওয়াফ করা। তাওয়াফ হলো ওমরাহর দ্বিতীয় ফরজ কাজ। 

তাওয়াফের নিয়ম এবং মহিলাদের জন্য বিশেষ নির্দেশনাঃ
মসজিদুল হারামে ডান পা দিয়ে প্রবেশের দোয়া পড়ে ঢোকার পর তাওয়াফের জায়গা 'মাতাফে' যেতে হবে। তাওয়াফের আগে গোসল করে নেওয়া ভালো। মাতাফে পৌঁছালে তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করে দিতে হয়। এরপর হাজরে আসওয়াদের (কালো পাথর) বরাবর এসে ডান হাত দিয়ে ইশারা করে 'বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার' বলে কাবাকে বাম দিকে রেখে সাতবার ঘোরার কাজ শুরু করতে হয়।

মহিলারা তাওয়াফের সময় কিছু বিষয়ে পুরুষের থেকে আলাদা নিয়ম মানবেন

রমল (দ্রুত হাঁটা) তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে পুরুষদের জন্য দ্রুত হাঁটা সুন্নাত। মহিলাদের জন্য রমল করা সুন্নাত নয় তাঁরা সব সময় স্বাভাবিক গতিতে হাঁটবেন। হাজরে আসওয়াদে চুমু হাজরে আসওয়াদে চুমু দেওয়া বা স্পর্শ করা সুন্নাত হলেও, ভিড়ের কারণে মহিলাদের জন্য এটি করতে যাওয়া সুন্নাত নয়। ভিড় না থাকলে বা পুরুষেরা না থাকলে সম্ভব হলে করতে পারেন, না হলে দূর থেকে ইশারা করাই যথেষ্ট। সময় ভিড়ের কারণে মহিলাদের জন্য রাতের বেলায় তাওয়াফ করা ভালো।

দোয়া তাওয়াফের সময় নির্দিষ্ট কোনো দোয়া পড়া বাধ্যতামূলক নয়, তবে প্রত্যেক চক্করে বিভিন্ন দোয়া ও জিকির নিচু স্বরে পাঠ করা উচিত। তাওয়াফের সময় মাসিকের বিধান যদি কোনো মহিলার তাওয়াফের সময় মাসিক বা নেফাস শুরু হয়, তবে তাওয়াফ করা যাবে না। মাসিক বা নেফাস অবস্থায় নামাজ ও তাওয়াফ ছাড়া ওমরাহর বাকি সব কাজ (যেমন তালবিয়া, দোয়া, জিকির, সাঈ) করা যায়। ফরজ তাওয়াফ (ওমরাহর তাওয়াফ) অবশ্যই পবিত্র অবস্থায় শেষ করতে হবে।

তাওয়াফের নামাজ ও সাঈ

তাওয়াফ শেষ হওয়ার পর মাকামে ইবরাহিমের কাছে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ পড়তে হয় এবং এরপর সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সাঈ করতে হয়। তাওয়াফের নামাজ ও জমজমের পানি পান করা। সাতবার তাওয়াফ শেষ হলে মাকামে ইবরাহিমের কাছে (ভিড় থাকলে মসজিদের অন্য কোথাও) দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ পড়তে হয়। এই নামাজে প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস পাঠ করা ভালো। মহিলারা পুরুষের থেকে দূরে বা আলাদা জায়গায় নামাজ আদায় করবেন। নামাজ শেষ করার পর কিবলামুখী হয়ে জমজমের পানি পান করা সুন্নত।

অনেকে বরকতের জন্য পানি মাথায়, মুখে ও শরীরে মাখেন, এটাও সুন্নত। সাঈর নিয়ম ও সবুজ চিহ্নের ব্যাপারটা সাঈ হলো সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সাতবার হেঁটে আসা-যাওয়া করা, যা ওমরাহর ওয়াজিব কাজ। প্রথমে সাফা পাহাড়ে উঠে কাবার দিকে মুখ করে দোয়া পড়তে হয়। সাফা থেকে মারওয়ার দিকে হেঁটে গেলে এক চক্কর হয়, আর মারওয়া থেকে সাফায় ফিরে এলে দুই চক্কর গণ্য হয়। এভাবে সাত চক্কর দিতে হয়। সাফা ও মারওয়ার মাঝামাঝি সবুজ আলো দিয়ে চিহ্নিত করা একটি জায়গা আছে। এই জায়গা পার হওয়ার সময় পুরুষদের জন্য দ্রুত গতিতে হাঁটা সুন্নাত। কিন্তু মহিলারা এই স্থানেও স্বাভাবিক গতিতেই হাঁটবেন, দ্রুত দৌড়াবেন না।

হালাল হওয়া চুল ছাঁটা ও ইহরাম শেষ

সাঈ শেষ হওয়ার পর ওমরাহর শেষ ওয়াজিব কাজ হলো চুল ছাঁটার মাধ্যমে ইহরাম থেকে হালাল হওয়া। মহিলাদের জন্য চুল ছাঁটার নিয়মঃ ওমরাহ বা হজ শেষে ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার জন্য পুরুষদের মাথা ন্যাড়া করা বা চুল ছোট করা নিয়ম। কিন্তু মহিলাদের জন্য মাথা ন্যাড়া করা (হলক) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নবী (সা.) মহিলাদের চুল ছাঁটার নির্দেশ দিয়েছেন।

মহিলাকে তাঁর পুরো মাথার চুল এক জায়গায় করে চুলের আগা থেকে কমপক্ষে এক কর (আঙুলের প্রথম গিরা) বা এক ইঞ্চি পরিমাণ কেটে ফেলতে হবে। এই চুল কাটার কাজ মাহরাম পুরুষকে দিয়ে করানো যায়, অথবা কোনো পবিত্র মহিলাও এটি করে দিতে পারেন। মহিলা চাইলে নিজেও নিজের চুল কেটে ইহরাম থেকে হালাল হতে পারেন।

চুল ছাঁটা হয়ে গেলেই মহিলা ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যান। এর মাধ্যমে ইহরামের কারণে নিষিদ্ধ হওয়া সব কাজ (যেমন—সেলাই করা পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, যৌন সম্পর্ক ইত্যাদি) আবার হালাল হয়ে যায়। ওমরাহর সব কাজ সঠিকভাবে শেষ করার পর এই হালাল অবস্থায় ফেরাটা মুমিনের জন্য খুব শান্তির বিষয়।

উপসংহারঃ মহিলাদের ওমরা পালনের নিয়ম

আজ আমরা এই পোস্টের মাধ্যমে জানতে পারলাম মহিলাদের ওমরা পালনের নিয়ম, মহিলাদের ওমরাহ ও হজ্জ পালনের জন্য অপরিহার্য ধর্মীয় নিয়মগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পুরুষদের সঙ্গে বেশিরভাগ নিয়ম এক হলেও, মহিলাদের ইহরামের পোশাকের শালীনতা, নেকাব ও হাতমোজা না পরার বাধ্যবাধকতা, তাওয়াফ ও সাঈর সময় দ্রুত না হেঁটে স্বাভাবিক গতি বজায় রাখা এবং মাসিকের সময় পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাওয়াফ থেকে বিরত থাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো সুস্পষ্ট করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, ইহরামের অবস্থায় কীভাবে পর্দা বজায় রেখে মুখ খোলা রাখতে হয় এবং ওমরাহ শেষে শুধুমাত্র চুলের ডগা থেকে এক আঙুলের গাঁটের পরিমাণ চুল কেটে হালাল হওয়ার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে এখানে সঠিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় এই পবিত্র সফরটি শুরু করার আগে প্রত্যেক মহিলা যাত্রীর উচিত নিয়মগুলো সঠিকভাবে বুঝে নেওয়া এবং নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে মাহরামের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সম্প্রতি সৌদি সরকারের নিয়মে পরিবর্তন এলেও, নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ থাকবে যে, একা ওমরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই নিজের দেশের নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতিদের সাথে আলোচনা করে নেওয়া ভালো। মনে রাখবেন, ওমরাহর প্রতিটি কাজ সূক্ষ্মভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি ভিড়ের মধ্যে সতর্কতা, পবিত্রতা এবং পর্দার বিধান পুরোপুরি মেনে চলা এই দুটো বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সার্ভিস আইটির নিয়ম মেনে কমেন্ট করুন প্রত্যেকটা কমেন্টের রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Sanjid Ali
Md. Sanjid Ali
একজন ব্লগার/কন্টেন্ট লেখক। আধুনিক জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও জ্ঞান নিয়ে আমরা হাজির হয়েছি। এখানে আপনি অনলাইন ইনকামের নানা কৌশল, স্বাস্থ্য,চিকিৎসা, রুপচর্চা বর্তমান লাইফস্টাইল সম্পর্কিত টিপস, এবং প্রযুক্তি ও ব্লগিং-এর অজানা দিকগুলো জানতে পারবেন।