বুক জ্বালাপোড়া কমানোর ঔষধ - বুক জ্বালাপোড়া কমানোর উপায়
টাফনিল কিসের ঔষধবুক জ্বালাপোড়া কমানোর ঔষধ ও বুক জ্বালাপোড়া কমানোর সকল কৌশল আজ আমার এই
পোস্টের মাধ্যমে আপনাকে জানিয়ে দিব, কিভাবে বুক জ্বালাপোড়া ঘরোয়া উপায়ে সহজে
মুক্তি পাবেন, আরো অনেক টোটকা জেনে নিন।
গ্যাসের কারণে বুকের অস্বস্তি এবং অম্বল থেকে মুক্তি পেতে সহজ প্রতিকারগুলি জেনে
নিন। বুক জ্বালাপোড়া কমানোর ঔষধ ও সঠিক লাইফ স্টাইল সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ
গাইডলাইন পেতে সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়তে থাকুন।
পোস্ট সূচীপত্রঃ বুক জ্বালাপোড়া কমানোর ঔষধ
- বুক জ্বালাপোড়া কমানোর ঔষধ
- বুক জ্বালাপোড়া করে কেন
- বুক জ্বালাপোড়া কমানোর ঘরোয়া উপায়
- বুক জ্বালাপোড়া করলে কি ওষুধ খেতে হবে
- কি খেলে বুক জ্বালা কমে
- বুকের মাঝখানে জ্বালাপোড়া কেন হয়
- গলা বুক জ্বালাপোড়া করলে কি করনীয়
- বুক জ্বালাপোড়া কমানোর দোয়া
- গ্যাসের কারণে বুকের অস্বস্তি ও তার প্রতিকার
- অম্বল থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়ার উপায়
- উপসংহারঃ বুক জ্বালাপোড়া কমানোর ঔষধ
বুক জ্বালাপোড়া কমানোর ঔষধ
বুক জ্বালাপোড়া কমানোর ঔষধ জ্বালাপোড়া বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা হলে
সাধারণত তিন রকমের ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা সমস্যার তীব্রতা অনুযায়ী কাজ
করে থাকে। প্রথমেই আসে অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ, যেটা দ্রুত পেটের অ্যাসিডকে
শান্ত করে এবং সঙ্গে সঙ্গেই আরাম দেয়, যদিও এর প্রভাব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়
না। এরপর আছে এইচ২ ব্লকার্স, যা অ্যাসিড তৈরি হওয়ার পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে
দিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য স্বস্তি দেয় এবং মাঝারি ধরনের জ্বালাপোড়ার জন্য
এটি খুবই কার্যকর। এই ধরনের ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই একজন ডাক্তারের সঙ্গে
পরামর্শ করে নেওয়া দরকার, কারণ ওষুধের ডোজ এবং সঠিক ব্যবহার সমস্যার
তীব্রতার ওপর নির্ভর করে।
যদি খুব ঘন ঘন বা তীব্রভাবে অ্যাসিড রিফ্লাক্স হয়, তবে প্রোটন পাম্প
ইনহিবিটরস সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। এই পিপিআই ওষুধগুলো পেটে অ্যাসিড
তৈরির প্রক্রিয়াকে প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, ফলে রোগীরা অনেক দিনের
জন্য স্বস্তি পান। ওমিপ্রাজল বা ইসোমিপ্রাজলের মতো ওষুধগুলো জিইআরডি বা
দীর্ঘস্থায়ী অ্যাসিড সমস্যার জন্য খুবই শক্তিশালী। তবে, মনে রাখতে হবে যে
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধগুলো দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা উচিত না, কারণ
এতে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আপনার শারীরিক অবস্থা
বিবেচনা করেই একজন চিকিৎসক আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ওষুধটি বেছে দেবেন।
বুক জ্বালাপোড়া করে কেন
খাদ্যনালী এবং পেটের সংযোগস্থলের পেশি যখন দুর্বল হয়ে যায়, তখনই মূলত বুক
জ্বালাপোড়ার সমস্যা দেখা দেয়। এই পেশি সাধারণত পেটের অ্যাসিডকে খাদ্যনালীতে
প্রবেশ করতে দেয় না, কিন্তু ত্রুটির কারণে অ্যাসিড উপরে উঠে আসে। অতিরিক্ত
মশলাযুক্ত, ঝাল বা তেলযুক্ত খাবার খাওয়া অ্যাসিড রিফ্লাক্সের অন্যতম প্রধান
কারণ। অতিরিক্ত মদ্যপান বা বেশি পরিমাণে ক্যাফেইন গ্রহণ করাও এই সমস্যাকে
গুরুতর করে তোলে। খাওয়ার সাথে সাথেই শুয়ে পড়লে বা সামনের দিকে ঝুঁকলেও
অ্যাসিড খাদ্যনালীতে সহজেই ফিরে আসতে পারে।
আরো পড়ুনঃ দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর উপায়
কিছু জীবনযাত্রার অভ্যাস আমাদের পেটে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অ্যাসিড তৈরি করতে
সাহায্য করে। খাওয়ার পরে খুব টাইট বা আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করলে পেটের ওপর চাপ
বাড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে খালি পেটে থাকলে বা তাড়াহুড়ো করে খাবার খেলে হজমে
সমস্যা হয়। গর্ভাবস্থায় পেটের ওপর চাপ বাড়ার কারণেও বুক জ্বালাপোড়া হতে
পারে। মানসিক চাপ এবং দুশ্চিন্তা অনেক সময় গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডের উৎপাদনকে
প্রভাবিত করে।
বুক জ্বালাপোড়া কমানোর ঘরোয়া উপায়
তাৎক্ষণিক বুক জ্বালাপোড়া কমাতে বেকিং সোডা মেশানো পানি পান করা একটি জনপ্রিয়
ঘরোয়া প্রতিকার। বেকিং সোডা দ্রুত পাকস্থলীর অ্যাসিডকে নিরপেক্ষ করে এবং
আপনাকে আরাম দিতে পারে। একটি কলা খাওয়া বা এক টুকরো আদা চিবিয়ে নেওয়াও এই
সময় খুব উপকারী হতে পারে। কলা প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড হিসাবে কাজ করে এবং আদা
হজম প্রক্রিয়াকে শান্ত রাখে। খাওয়ার পরে চুইংগাম চিবানো লালা প্রবাহ বাড়িয়ে
খাদ্যনালী পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে খাদ্যাভ্যাসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ
পরিবর্তন আনতে হবে। অতিরিক্ত মশলাযুক্ত বা চর্বিযুক্ত খাবার তালিকা থেকে বাদ
দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। দিনে অল্প অল্প পরিমাণে খাবার বারে বারে খেলে হজম
প্রক্রিয়ার উপর চাপ কম পড়ে। খাবার খাওয়ার অন্তত তিন ঘণ্টা পরে ঘুমাতে গেলে
অ্যাসিড রিফ্লাক্সের ঝুঁকি কমে যায়। বালিশ উঁচু করে ঘুমালে বা বাম কাত হয়ে
শুলে অ্যাসিড সহজে উপরে উঠে আসতে পারে না। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত
পানি পান করাও হজমের জন্য ভালো।
বুক জ্বালাপোড়া করলে কি ওষুধ খেতে হবে
বুক জ্বালাপোড়া হলে সাধারণত প্রথম যে ওষুধটি ব্যবহৃত হয়, তা হলো অ্যান্টাসিড
জাতীয় ঔষধ। এটি পেটের অ্যাসিডকে দ্রুত নিরপেক্ষ করে তাৎক্ষণিক উপশম এনে দেয়।
এরপরে এইচ২ ব্লকার্স শ্রেণির ওষুধ রয়েছে, যা অ্যাসিড উৎপাদন কিছুটা কমিয়ে
দীর্ঘস্থায়ী আরাম দেয়। তীব্র বা ঘন ঘন সমস্যার জন্য প্রোটন পাম্প ইনহিবিটরস
জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এই পিপিআই ওষুধগুলো পেটের অ্যাসিড তৈরির
প্রক্রিয়াকে একেবারে ব্লক করে দেয়। মনে রাখা জরুরি, কোনো ধরনের ওষুধ সেবনের
আগে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ওষুধের ব্যবহার সমস্যার তীব্রতা এবং রোগীর সার্বিক স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করে।
অ্যান্টাসিড যেমন দ্রুত কাজ করে, তেমনই এর প্রভাব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না।
পিপিআই জাতীয় ওষুধগুলো সবচেয়ে কার্যকর হলেও এগুলো দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারে কিছু
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। তাই প্রেসক্রিপশন ছাড়া এই ওষুধগুলি একটানা
ব্যবহার করা উচিত নয়। রেনিটিডিন বা ওমিপ্রাজলের মতো ওষুধগুলো বাজারে সহজলভ্য
হলেও ডাক্তারের পরামর্শ আবশ্যক। আপনার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করেই ডাক্তার
সঠিক ওষুধ ও তার মাত্রা নির্ধারণ করে দেবেন।
কি খেলে বুক জ্বালা কমে
কিছু খাবার আছে যা বুক জ্বালাপোড়ার সময় পাকস্থলীর অ্যাসিডকে শান্ত করতে
বিশেষভাবে সাহায্য করে। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন ওটস, সেদ্ধ সবজি এবং শস্যদানা
হজমে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ক্ষারীয় প্রকৃতির খাদ্য, যেমন কলা, তরমুজ এবং শসা
অ্যাসিডকে নিরপেক্ষ করতে খুবই কার্যকর। চর্বিহীন প্রোটিন, যেমন চামড়া ছাড়া
সেদ্ধ বা গ্রিল করা মুরগির মাংস খাওয়া যেতে পারে। আদা বা তুলসি পাতা ভেজানো
পানি পান করলে খাদ্যনালীর জ্বালা কিছুটা কমে আসে।
আরো পড়ুনঃ মাথা যন্ত্রণা কমানোর ঘরোয়া উপায়
খাবারের তালিকায় কিছু সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন আনলে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা
সম্ভব। টক দই বা বাটারমিল্ক প্রোবায়োটিক সরবরাহ করে এবং হজম ক্ষমতাকে উন্নত
করে। পানীয় উপাদান বেশি এমন খাবার শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং অ্যাসিড
রিফ্লাক্স কমায়। খাবার খাওয়ার পরপরই বেশি পরিমাণে পানীয় পান করা থেকে বিরত
থাকাই ভালো। সাইট্রাস ফল বা টমেটো-ভিত্তিক খাবার এই সময়ে এড়িয়ে চললে বুক
জ্বালা কমবে। কোন খাবার আপনার সমস্যা বাড়ায়, তা লক্ষ্য রেখে তালিকা তৈরি করা
উচিত।
বুকের মাঝখানে জ্বালাপোড়া কেন হয়
বুকের মাঝখানে জ্বালাপোড়ার মূল কারণ হলো পেটের অ্যাসিডের খাদ্যনালীতে ফিরে
আসা। খাদ্যনালীর অভ্যন্তরের দেওয়াল পেটের শক্তিশালী অ্যাসিডের সহ্য করার
ক্ষমতা রাখে না। যখন স্ফিঙ্কটার পেশি ঠিকমতো বন্ধ হয় না, তখন অ্যাসিড উপরে উঠে
জ্বালা সৃষ্টি করে। এই তীব্র জ্বালার অনুভূতিকেই সাধারণত আমরা 'হার্টবার্ন'
নামে চিনে থাকি। অতিরিক্ত খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লে বা সামনে ঝুঁকলে এই জ্বালা
আরও বেড়ে যায়।
এই সমস্যাটি মাঝে মাঝে এতোটাই তীব্র হতে পারে যে এটিকে হৃৎপিণ্ডের ব্যথা বলেও
ভুল হতে পারে। হাইটাল হার্নিয়া নামে একটি শারীরিক সমস্যার কারণেও এই
জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি হতে পারে। হাইটাল হার্নিয়ায় পাকস্থলীর একটি অংশ
ডায়াফ্রামের উপর দিয়ে বুকের দিকে উঠে আসে। জি ই আর ডি হলো এমন একটি অবস্থা
যেখানে এই অ্যাসিড রিফ্লাক্স ঘন ঘন এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। এই জ্বালাপোড়ার
প্রধান কারণ হলো দুর্বল স্ফিঙ্কটার এবং পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড।
গলা বুক জ্বালাপোড়া করলে কি করনীয়
গলা এবং বুক জ্বালাপোড়া শুরু হলে দ্রুত উঠে বসুন বা সোজা হয়ে দাঁড়ান। অল্প
অল্প করে পানি পান করলে খাদ্যনালী থেকে অ্যাসিড নিচে নামতে সাহায্য হয়। হাতের
কাছে থাকা অ্যান্টাসিড ঔষধ সেবন করলে তা দ্রুত উপশম দিতে পারে। এই সময়
কোনোভাবেই সামনের দিকে ঝুঁকবেন না বা শোবেন না। ঢিলেঢালা পোশাক পরুন যাতে পেটের
উপর কোনো চাপ না পড়ে।
আরো পড়ুনঃ মেয়েদের জন্য অশ্বগন্ধার উপকারিতা
দীর্ঘস্থায়ী আরামের জন্য খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা সবচেয়ে জরুরি। ঝাল, মশলা
এবং চর্বিযুক্ত খাবার সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলুন। খাওয়ার পর পরই শুয়ে না থেকে
অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। অল্প পরিমাণে খাবার বারে বারে খান,
যাতে পাকস্থলীর উপর চাপ কম পড়ে। নিয়মিত এই সমস্যা হলে অবশ্যই একজন
গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বুক জ্বালাপোড়া কমানোর দোয়া
বুক জ্বালাপোড়ার মতো শারীরিক কষ্টের উপশমের জন্য অনেকে ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক
পথের সন্ধান করেন। ইসলাম ধর্মে যেকোনো শারীরিক কষ্ট বা অসুস্থতার সময় আল্লাহর
কাছে সাহায্য প্রার্থনার কথা বলা হয়েছে। এই সময় মানসিক শান্তি এবং আরোগ্য
লাভের উদ্দেশ্যে মুসলমানেরা নির্দিষ্ট কিছু দোয়া পড়ে থাকেন। এই দোয়া পাঠ
মূলত আল্লাহর উপর ভরসা রাখার মাধ্যমে মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
মুসলমানরা বিশ্বাস করেন যে কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত এই দোয়াগুলো কষ্ট লাঘবে
সাহায্য করতে পারে।
অসুস্থতার সময় ধৈর্য ধারণের জন্য এবং দ্রুত সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে
একান্তভাবে প্রার্থনা করা হয়। শরীরের আক্রান্ত স্থানে হাত রেখে নির্দিষ্ট কিছু
আয়াত বা দোয়া পড়ে ফুঁ দেওয়ার প্রচলনও রয়েছে। এই ধর্মীয় চর্চাগুলো মানসিক
শক্তি যোগায় এবং রোগ মুক্তির ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে। চিকিৎসার পাশাপাশি এই
ধর্মীয় বিশ্বাস মানসিক অবলম্বন হিসেবে কাজ করতে পারে।
গ্যাসের কারণে বুকের অস্বস্তি ও তার প্রতিকার
অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালাপোড়ার মতোই গ্যাসের কারণে বুকে এক ধরনের অস্বস্তি বা
ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এই গ্যাস মূলত পাকস্থলী বা অন্ত্রে খাবার হজমের সময়
তৈরি হয় এবং পেটের ভেতর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। গ্যাসের কারণে সৃষ্ট এই
ব্যথা অনেক সময় বুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বুক জ্বালাপোড়ার মতোই অনুভূত হয়।
অতিরিক্ত বাতাস গিলে ফেলা, বাঁধাকপি বা ডাল জাতীয় গ্যাস সৃষ্টিকারী খাবার
খাওয়া এর প্রধান কারণ। এই অস্বস্তি দূর করতে কিছু কার্যকর প্রতিকার অনুসরণ করা
যেতে পারে।
গ্যাসের কারণে বুকের অস্বস্তি কমাতে জোয়ান বা মৌরি ভেজানো পানি পান করা খুবই
উপকারী। খাবার ধীরে ধীরে এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে পেটে কম বাতাস প্রবেশ করে ও
গ্যাস কম তৈরি হয়। খাওয়ার পরে কিছুক্ষণের জন্য হাঁটাচলা করলে বা হালকা
ব্যায়াম করলে আটকে থাকা গ্যাস মুক্ত হতে পারে। আদা বা পুদিনা পাতা মেশানো চা
পান করলেও গ্যাসজনিত ব্যথা থেকে দ্রুত মুক্তি মেলে। যদি এই ধরনের অস্বস্তি ঘন
ঘন হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডিগ্যাসিং ট্যাবলেট সেবন করা যেতে পারে।
অম্বল থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়ার উপায়
বুক জ্বালাপোড়ার বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে 'অম্বল' শব্দটি খুবই পরিচিত এবং এটি
পেটের অ্যাসিড খাদ্যনালীতে ফিরে আসার কারণে ঘটে। এই অম্বল থেকে দ্রুত মুক্তি
পাওয়ার জন্য কিছু কৌশল জানা থাকা দরকার। এই সময়ে ঠাণ্ডা দুধ বা টক দই সেবন
করা যেতে পারে, যা অ্যাসিডকে নিরপেক্ষ করতে সহায়তা করে। এক গ্লাস পানিতে লেবুর
রস মিশিয়ে সামান্য পরিমাণে পান করলে তা অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় রাখতে
সাহায্য করে। টাইট পোশাক পরা থাকলে তা দ্রুত আলগা করে দেওয়া উচিত, যাতে পেটের
উপর চাপ কম পড়ে।
অম্বল থেকে মুক্তি পেতে হলে জীবনধারা এবং খাদ্যাভ্যাসে জরুরি পরিবর্তন আনা
প্রয়োজন। অতিরিক্ত তেলযুক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার এবং অ্যাসিডিক পানীয়গুলো
খাদ্যতালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। ধূমপান এবং অতিরিক্ত মদ্যপান করা এই
সমস্যার তীব্রতা বাড়িয়ে তোলে, তাই এগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। রাতের খাবার
ঘুমানোর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে খেয়ে নেওয়া উচিত। যদি ঘন ঘন অম্বলের
সমস্যা হয়, তবে প্রয়োজনে অ্যান্টাসিড বা পিপিআই জাতীয় বুক জ্বালাপোড়া
কমানোর ঔষধ ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে।
উপসংহারঃ বুক জ্বালাপোড়া কমানোর ঔষধ
আজ আমরা এই পোস্টর মাধ্যমে জানতে পারলাম বুক জ্বালাপোড়া কমানোর ঔষধ সম্পর্কে ও
বুক জ্বালাপোড়া বা অ্যাসিডিটির মূল কারণ হলো দুর্বল খাদ্যনালী পেশি এবং
অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। এই সমস্যা থেকে দ্রুত
মুক্তি পেতে ঘরোয়া উপায় হিসেবে বেকিং সোডা মেশানো পানি বা একটি কলা খাওয়া
যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী নিয়ন্ত্রণের জন্য খাবার খাওয়ার অন্তত তিন ঘণ্টা পর
ঘুমানো এবং টাইট পোশাক এড়িয়ে চলার মতো জীবনযাত্রার পরিবর্তন প্রয়োজন। তীব্র
বা ঘন ঘন সমস্যার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টাসিড বা পিপিআই জাতীয় ওষুধ
সেবন করা আবশ্যক। এছাড়াও, ওটস, কলা, বা আদার মতো নির্দিষ্ট কিছু খাবার হজমে
সাহায্য করে অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক।
আমার মতে, বুক জ্বালাপোড়া কেবল ওষুধ দিয়ে সারানো যায় না, এটি লাইফ স্টাইল
পরিবর্তনের মাধ্যমেই স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ছোট ছোট অভ্যাস, যেমন
খাবার ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়া বা নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা, এই সমস্যা
কমাতে বড় ভূমিকা রাখে। গ্যাসের অস্বস্তি বা অম্বলকে গুরুত্ব দিয়ে
খাদ্যাভ্যাসে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। লেখক পরামর্শ দিচ্ছেন যে, ঘরোয়া টোটকা
অনুসরণ করার পাশাপাশি সমস্যা গুরুতর হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাহায্য নিতে
দ্বিধা করা উচিত নয়। অর্থাৎ, সচেতনতা এবং সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই হলো এই
সমস্যার সমাধান।



সার্ভিস আইটির নিয়ম মেনে কমেন্ট করুন প্রত্যেকটা কমেন্টের রিভিউ করা হয়।
comment url