ওয়ারিশ সনদ করার নিয়ম বাংলাদেশ ২০২৬ | আবেদন, কাগজপত্র ও খরচ

ওয়ারিশ সনদ ২০২৬: উত্তরাধিকার আইন, আবেদন ও পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন

ওয়ারিশ সনদ হলো মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকার প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দলিল।এই গাইডে ২০২৬ সালের সর্বশেষ নিয়ম অনুযায়ী আবেদন পদ্ধতি, কাগজপত্র ও খরচ সহজভাবে জানবেন।
ওয়ারিশ সনদ ২০২৬ বাংলাদেশ: রাহুল রহমানের উত্তরাধিকারী তালিকা ও আইনি দলিল

ওয়ারিশ সনদ কী? ওয়ারিশ সনদ বা উত্তরাধিকারী সার্টিফিকেট হলো স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ (ইউনিয়ন/পৌরসভা) কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি সরকারি আইনি দলিল, যা মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারীদের তালিকা এবং মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ওপর তাদের আইনি মালিকানা নিশ্চিত করে। এটি মূলত উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সম্পত্তির বণ্টন ও নামজারি প্রক্রিয়ার প্রধান ভিত্তি।

ওয়ারিশ সনদ করার নিয়ম বাংলাদেশ: আবেদন পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও খরচ (২০২৬)

বাংলাদেশে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের জীবনে উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী প্রাপ্ত সম্পত্তির সঠিক বণ্টন এবং আইনি দলিল নিশ্চিত করা একটি অপরিহার্য কাজ। যখন পরিবারের কোনো অভিভাবক পরলোকগমন করেন, তখন তার রেখে যাওয়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির প্রকৃত মালিক কারা হবেন তা নির্ধারণের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি স্বীকৃত নথির প্রয়োজন পড়ে।

এই প্রয়োজনীয় নথিটিই হলো ওয়ারিশ সনদ যা আমাদের সাধারণ মানুষের কাছে উত্তরাধিকারী সার্টিফিকেট হিসেবেও পরিচিত। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সনদ সংগ্রহের নিয়মকানুন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ ও আধুনিক করা হয়েছে। এই পোস্টে আমরা সঠিক পদ্ধতি ও আইনি নিয়ম নিয়ে আলোচনা করব।

ওয়ারিশ সনদ কেবল একটি সাধারণ কাগজ নয়, বরং এটি আপনার পৈতৃক বা পারিবারিক সম্পত্তি প্রাপ্তির ওপর আইনি ভিত্তি প্রদানের প্রথম পদক্ষেপ। এই সনদটি ছাড়া জমির নামজারি, ব্যাংক থেকে মৃত ব্যক্তির গচ্ছিত রাখা অর্থ উত্তোলন করা কিংবা কোনো প্রকার আইনি বিবাদ নিষ্পত্তি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

অনেক ক্ষেত্রে সঠিক তথ্যের অভাবে মানুষ দালালের খপ্পরে পড়ে অনেক টাকা নষ্ট করেন। তাই আপনার সচেতনতা এবং সঠিক নিয়ম জানা থাকলে আপনি নিজেই এই কাজটি অল্প খরচে সম্পন্ন করতে পারবেন। এই নিবন্ধে আমরা ধাপে ধাপে আবেদনের প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে সব খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব যা আপনার সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় করবে।

ওয়ারিশ সনদ ও উত্তরাধিকারী সার্টিফিকেট কী?

ওয়ারিশ সনদ হলো একটি আইনি প্রত্যয়নপত্র যা মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং সম্পর্কের প্রমাণ বহন করে। যখন কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার রেখে যাওয়া সম্পদের অংশীদার কারা হবেন তা ধর্মীয় আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এটিই হলো আপনার উত্তরাধিকার প্রমাণের প্রধান মাধ্যম।

এই ধর্মীয় উত্তরাধিকারের ভিত্তিতেই স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি (চেয়ারম্যান/মেয়র/কাউন্সিলর) একটি নির্দিষ্ট ফরমেটে এই সনদ প্রদান করে থাকেন। এটি মূলত রাষ্ট্র কর্তৃক একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা যেখানে বলা হয় যে মৃত ব্যক্তির নিকটাত্মীয়রা তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। এই সনদকেই অনেকে স্থানীয়ভাবে উত্তরাধিকারী সার্টিফিকেট বলে থাকেন।

সহজ কথায় বলতে গেলে, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিগণ যে তার বৈধ উত্তরাধিকারী, তার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিই হলো এই সার্টিফিকেট। এটি স্থানীয় তদন্ত সাপেক্ষে এবং এলাকার মানুষের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয় যাতে কোনো ভুয়া মানুষের নাম সেখানে ঢুকতে না পায় এবং সত্যিকারের দাবিদাররা বঞ্চিত না হয়।

পারিবারিক সম্পত্তি রক্ষায় ওয়ারিশ সনদ কেন প্রয়োজন

ওয়ারিশ সনদের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম কারণ এটি ছাড়া পারিবারিক সম্পত্তি ও এর মালিকানা বা আইনি স্বীকৃতি প্রমাণ করা কঠিন। জমি নামজারি করা থেকে শুরু করে ব্যাংক থেকে মৃত ব্যক্তির টাকা উত্তোলন করা, এমনকি সরকারি পেনশন সুবিধা পাওয়ার জন্য এটি একটি বাধ্যতামূলক দলিল হিসেবে গণ্য হয়।

যদি মৃত ব্যক্তির নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি থাকে এবং আপনারা সেটি নিজেদের মধ্যে বণ্টন করতে চান, তবে এসি ল্যান্ড অফিসে সবার আগে ওয়ারিশ সনদ জমা দিতে হবে। এটি না থাকলে সম্পত্তির জমি মিউটেশন বা রেকর্ড সংশোধন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এটি আপনার মালিকানার প্রাথমিক আইনি রক্ষাকবচ।

এছাড়া পারিবারিক কোনো বিবাদ বা আদালতের মামলা মোকাবিলা করার সময় উত্তরাধিকারী হিসেবে নিজের পরিচয় দেওয়ার প্রধান উপায় হলো এই সনদ। অনেক সময় উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে মনোমালিন্য তৈরি হয়, সেক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদই হলো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আইনি সমাধান যা সবার ন্যায্য অংশ নির্ধারণে সরাসরি সাহায্য করে।

কারা ওয়ারিশ সনদ পেতে পারেন

উত্তরাধিকারী তালিকা অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির পারিবারিক সদস্যরা সনদে অন্তর্ভুক্ত হন এবং এটি মৃত ব্যক্তির ধর্মীয় আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়ে থাকে। মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির জীবিত স্ত্রী বা স্বামী, তাদের সন্তানাদি এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির পিতা ও মাতা উত্তরাধিকারী হিসেবে গণ্য হন।

আবেদনের সময় খেয়াল রাখতে হবে যে কোনো বৈধ ওয়ারিশের নাম যেন বাদ না পড়ে। যদি কোনো ওয়ারিশ বিদেশেও থাকেন, তবুও তার নাম এই সনদে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে কারণ উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির ওপর তার অধিকার থেকে যায়। এটি পরিবারের সকলের ন্যায়সংগত অংশ নিশ্চিত করার একটি রাষ্ট্রীয় মাধ্যম।

অন্যান্য ধর্মীয় আইন যেমন হিন্দু বা খ্রিস্টান উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারী তালিকা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তবে মৌলিকভাবে মৃত ব্যক্তির সবচেয়ে কাছের রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়রাই এই সনদের প্রধান দাবিদার হন। আবেদন করার সময় সকল জীবিত ওয়ারিশের নাম অত্যন্ত সততার সাথে উল্লেখ করা উচিত।

ওয়ারিশ সনদ ও নামজারি প্রক্রিয়া (ধাপে ধাপে)

ওয়ারিশ সনদ করার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে বেশ গোছানো এবং সঠিক আবেদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি যাচাই সম্পন্ন হয়। তবে এর সাথে সাথে ভবিষ্যৎ জটিলতা এড়াতে আপনাকে নামজারি প্রক্রিয়া সম্পর্কেও সম্যক ধারণা রাখতে হবে।

প্রথমে আপনাকে মৃত ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব বা ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তার কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করার জন্য আবেদন পত্র সংগ্রহ করতে হবে। এটি সংগ্রহের পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ।

আবেদন ফরমের সাথে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র সংযুক্ত করে নির্দিষ্ট ডেস্কে জমা দিতে হবে। আবেদন জমা হওয়ার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি অর্থাৎ চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলরের নেতৃত্বে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়। তারা তথ্যের সত্যতা যাচাই করে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেন যাতে কোনো ভুল বা জালিয়াতি না থাকে।

যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো অভিযোগ না আসে এবং তদন্ত রিপোর্ট সন্তোষজনক হয়, তবে চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলর সনদে স্বাক্ষর করেন। সবশেষে নির্ধারিত ফি প্রদান করে আপনি আপনার ওয়ারিশ সনদটি অফিস থেকে বুঝে নিতে পারবেন যা পরবর্তী সকল আইনি এবং জমি সংক্রান্ত কাজে ব্যবহারযোগ্য।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ডিজিটাল মৃত্যু সনদ

আবেদনকারীর সমস্ত প্রমাণপত্র যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র ও মৃত্যুর সনদ কপি জমা দিতে হবে যা আপনার তথ্যের সত্যতা প্রমাণ করবে। সবার আগে প্রয়োজন হবে ডিজিটাল মৃত্যু সনদ যা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে আগেই সংগ্রহ করতে হবে। এটি আবেদনের মূল ভিত্তি।

এর পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ডের একটি সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে। যদি মৃত ব্যক্তির পরিচয়পত্র না থাকে, তবে তার জন্ম নিবন্ধন বা পাসপোর্টের কপিও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এটি নিশ্চিত করে যে সনদটি প্রকৃতপক্ষে কার অনুকূলে ইস্যু করা হচ্ছে এবং ব্যক্তিটি সঠিক কিনা।

আবেদনকারীর এবং সকল জীবিত ওয়ারিশের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধনের কপিও বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হয়। এর সাথে প্রত্যেক ওয়ারিশের এক কপি করে পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি লাগবে যা আবেদনপত্রের নির্ধারিত স্থানে সংযুক্ত করতে হবে। এটি সনদের স্বচ্ছতা ও সত্যতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

আবেদন করার আগে অবশ্যই মৃত্যু সনদ করার নিয়ম এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রগুলো সঠিকভাবে গুছিয়ে রাখা জরুরি। এতে দাপ্তরিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং কোনো ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয় না।

সরকারি আবেদন ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ

২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহের সরকারি আবেদন ফি খুব কম এবং সরাসরি আবেদন কেন্দ্রে জমা দিলে বাড়তি খরচ লাগে না। সাধারণত ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা ভেদে এই ফি ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে যা দাপ্তরিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নেওয়া হয়।

তবে অনেক ক্ষেত্রে আবেদন ফরমের দাম বা আবেদন খরচ বাবদ সামান্য কিছু বাড়তি অর্থ প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখবেন, সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদ বা যোগাযোগ কেন্দ্র অফিসে গিয়ে আবেদন করলে আপনি নির্ধারিত ফির মধ্যেই এই কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন এবং অপ্রয়োজনীয় দালাল বা অনিয়ম এড়াতে পারবেন।

অনেকে দ্রুত কাজ করার আশায় দালালের শরণাপন্ন হন এবং হাজার হাজার টাকা খরচ করেন, যা মোটেও সমীচীন নয়। আপনি যদি সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন এবং সব কাগজপত্র সঠিকভাবে জমা দেন, তবে বাড়তি কোনো টাকা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখানে প্রধান লক্ষ্য।

ওয়ারিশ সনদ পেতে কতদিন লাগে

দপ্তরের কার্যক্রম ও তদন্ত প্রক্রিয়া অনুসারে ওয়ারিশ সনদ পেতে প্রায় ৭–১৫ কার্যদিবস সময় লাগে। সাধারণ নিয়মে আবেদন জমা দেওয়ার পর থেকে এই প্রক্রিয়া সময় মূলত নির্ভর করে স্থানীয় দপ্তরের তদন্তের গতির ওপর। আপনার তথ্যের নির্ভুলতা এই সময়কে অনেক গুণ ত্বরান্বিত করতে পারে।

ডিজিটাল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম এখন অনেক দ্রুত হওয়ায় অনেক এলাকায় এক সপ্তাহের মধ্যেই সনদ পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে যদি তথ্যের কোনো অস্পষ্টতা থাকে বা উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কোনো প্রকাশ্য বিবাদ থাকে, তবে তদন্ত প্রক্রিয়া কিছুটা দীর্ঘ হতে পারে। এটি তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন।

যদি কোনো উত্তরাধিকারী বিদেশে অবস্থান করেন এবং তার তথ্য যাচাই করতে সময় লাগে, তবে কিছুটা দেরি হতে পারে। এছাড়া চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলরের ব্যস্ততা বা বিশেষ কোনো দাপ্তরিক কারণেও সময়সীমা কিছুটা বাড়তে পারে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যা সঠিক নিয়মেই সম্পন্ন করতে হয়।

ওয়ারিশ সনদ বাতিল হওয়ার কারণ

একটি ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার পর তা যেকোনো সময় বাতিল হতে পারে যদি ভুল তথ্য বা যাচাই ব্যর্থ হয়। বাতিল হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো কোনো বৈধ উত্তরাধিকারীর নাম ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা। এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে যা পারিবারিক শান্তি ও আইনি প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করে।

যদি কোনো বঞ্চিত ওয়ারিশ পরবর্তীতে উপযুক্ত প্রমাণসহ আবেদন করেন, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই সনদটি সাথে সাথে বাতিল করে দিতে পারেন। এছাড়া আবেদনের সময় ভুল তথ্য দিলে বা মৃত ব্যক্তির মৃত্যু তারিখ নিয়ে কারচুপি করলে পুরো প্রক্রিয়াটি আইনিভাবে অকেজো হয়ে যায় এবং সম্পত্তির বণ্টন স্থগিত থাকে।

সনদে যদি কারও সই জাল করা হয় বা ভুয়া এনআইডি ব্যবহার করা হয়, তবে তথ্য যাচাই শেষে সেই সনদ বাতিল হয়ে যায় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাই তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে শতভাগ সত্যতা নিশ্চিত করা আপনার পারিবারিক সম্পত্তির আইনি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

আবেদন বাতিল হলে আইনি পদক্ষেপ ও করণীয়

যদি আপনার ওয়ারিশ সনদের আবেদন কোনো কারণে বাতিল হয়ে যায়, তবে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য এবং প্রথমেই বাতিলের সঠিক কারণটি জেনে নিতে হবে। অনেক সময় কেবল ছোটখাটো তথ্যের ভুল বা কাগজের ঘাটতির কারণে আবেদন স্থগিত থাকে যা পুনরায় সংশোধনের সুযোগ থাকে।

সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্র গুছিয়ে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ থাকে। যদি মনে হয় ভুল তথ্যের জন্য আবেদন বাতিল হয়েছে, তবে সঠিক তথ্যের স্বপক্ষে দালিলিক প্রমাণ জমা দিয়ে বিষয়টি সংশোধন করার জন্য অনুরোধ জানানো যেতে পারে। এটি আপনার নাগরিক অধিকার আদায়ের একটি সঠিক পথ।

যদি আপনি মনে করেন আপনার আবেদনটি অন্যায্যভাবে বাতিল করা হয়েছে, তবে আপনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেমন ইউএনও বা জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করতে পারেন। আপনার আবেদনের যৌক্তিকতা থাকলে অবশ্যই আপনি যথাযথ ন্যায়বিচার পাবেন এবং আপনার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

ওয়ারিশ সনদ সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

১. ওয়ারিশ সনদ কি অনলাইনে করা যায়?
অনলাইন আবেদন বর্তমানে সীমিত হলেও সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি সরাসরি জমা দিতে হয়। ২০২৬ সালের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি ডিজিটাল না হলেও অনেক জায়গায় অনলাইনে ফর্ম পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।

২. ওয়ারিশ সনদ করতে কত টাকা লাগে?
সরকারি ফি সাধারণত ৫০ থেকে ১০০ টাকা। দালালের খপ্পরে না পড়লে আপনি এই নগণ্য খরচেই কাজটি সারতে পারবেন যা অত্যন্ত সহজ এবং সাশ্রয়ী।

৩. বিদেশে থাকা উত্তরাধিকারীর নাম কীভাবে যুক্ত করব?
বিদেশে থাকা উত্তরাধিকারীর পাসপোর্ট বা এনআইডি কপি সংগ্রহ করে তালিকায় তার নাম যুক্ত করতে হবে। এটি উত্তরাধিকার আইনের একটি সাধারণ নিয়ম যা পালন করা বাধ্যতামূলক।

৪. দ্রুত ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার উপায় কী?
সব কাগজপত্র, বিশেষ করে ডিজিটাল মৃত্যু সনদ নির্ভুলভাবে প্রস্তুত রেখে সরাসরি স্থানীয় চেয়ারম্যান বা মেয়রের অফিসে যোগাযোগ করলে দ্রুততম সময়ে সনদ পাওয়া সম্ভব।


তথ্যসূত্র ও লেখক পরিচিতি: এই গাইডটি বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার আইন এবং ২০২৬ সালের সর্বশেষ প্রশাসনিক নির্দেশনার আলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে। উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এড়াতে সঠিক তথ্য প্রদান করুন। সর্বশেষ আপডেটের তারিখ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬।

উপসংহার

ওয়ারিশ সনদ হলো মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারী প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দলিল যা প্রতিটি পরিবারের সম্পত্তির অধিকার রক্ষা করে। সঠিক নিয়ম অনুসরণ করলে এটি আপনার পরিবারের সম্পত্তি সংরক্ষণে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। দালালের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি স্থানীয় অফিসে আবেদন করুন।

বাংলাদেশের বর্তমান নিয়মানুযায়ী এই প্রক্রিয়াটি এখন অনেক বেশি জনবান্ধব এবং সহজতর করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ কোনো ভোগান্তি ছাড়াই তাদের আইনি অধিকার বুঝে নিতে পারে। আমরা আশা করি এই বিস্তারিত নিবন্ধটি আপনাকে পুরো পদ্ধতিটি বুঝতে সাহায্য করবে এবং আপনার সময় সাশ্রয় করবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সার্ভিস আইটির নিয়ম মেনে কমেন্ট করুন প্রত্যেকটা কমেন্টের রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Sanjid Ali
Md. Sanjid Ali
একজন ব্লগার/কন্টেন্ট লেখক। আধুনিক জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও জ্ঞান নিয়ে আমরা হাজির হয়েছি। এখানে আপনি অনলাইন ইনকামের নানা কৌশল, স্বাস্থ্য,চিকিৎসা, রুপচর্চা বর্তমান লাইফস্টাইল সম্পর্কিত টিপস, এবং প্রযুক্তি ও ব্লগিং-এর অজানা দিকগুলো জানতে পারবেন।