পাসপোর্ট করার নিয়মাবলী ২০২৬ | পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?

২০২৬ সালে বাংলাদেশে পাসপোর্ট করা এখন খুব সহজ এবং পুরো প্রক্রিয়াই অনলাইনে করা যায়। এই পোস্টে আপনি পাসপোর্ট করার নিয়ম, কীভাবে আবেদন করবেন এবং মোট কত টাকা লাগবে—সবকিছু সহজ ভাষায় জানতে পারবেন।
পাসপোর্ট করার নিয়মাবলী ও পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে বাংলাদেশ ২০২৬

পোস্ট সূচীপত্রঃ

পাসপোর্ট করার নিয়মাবলী

২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশে পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়া এখন অনেক বেশি আধুনিক এবং সহজতর হয়েছে। বর্তমান সময়ে বিদেশ ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা বা চিকিৎসার জন্য পাসপোর্ট একটি অপরিহার্য দলিল। আগে পাসপোর্ট করতে গিয়ে যে দালালের ভোগান্তি পোহাতে হতো, ই-পাসপোর্ট সিস্টেম চালু হওয়ার পর সেই সমস্যা অনেকটাই কমে গেছে। এখন আপনি ঘরে বসেই আপনার স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে পাসপোর্টের প্রাথমিক কাজগুলো সেরে নিতে পারেন।

তবে আবেদনের আগে আপনাকে অবশ্যই সঠিক নিয়মাবলী এবং বর্তমান ফি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা রাখতে হবে। আজকের এই বিস্তারিত গাইডে আমরা আলোচনা করব কীভাবে আপনি সঠিক উপায়ে পাসপোর্টের আবেদন করবেন এবং ২০২৬ সালে পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগবে সেই সম্পর্কে। পাসপোর্ট করার আগে আপনার জন্ম নিবন্ধন অনলাইন আবেদন ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ আপনার জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সাথে পাসপোর্টের তথ্যের মিল না থাকলে আবেদনটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। 

তাই শুরুতেই আপনার প্রয়োজনীয় সকল নথিপত্র গুছিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আমাদের এই আলোচনাটি আপনাকে একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রদান করবে যাতে আপনি কোনো প্রকার জটিলতা ছাড়াই নিজের পাসপোর্ট নিজে তৈরি করতে পারেন। ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় এখন পাসপোর্ট সেবাকে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে নিয়ে আসা হয়েছে।

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২০২৬ | সূত্র: বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর

পাসপোর্টের ফি এবং ডেলিভারির সময়সীমা ২০২৬ (আপডেট)

নিচে ২০২৬ সালের আপডেট অনুযায়ী ই-পাসপোর্টের বিভিন্ন ক্যাটাগরির পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ এবং ডেলিভারির সময় অনুযায়ী ফির তালিকা দেওয়া হলো। এটি দেখে আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পাসপোর্ট বেছে নিতে পারবেন।

পাসপোর্টের ধরণ সাধারণ (২১ দিন) দ্রুত (৭ দিন) অতি জরুরি (২ দিন)
৪৮ পৃষ্ঠা - ৫ বছর ৪,০২৫ টাকা ৬,৩২৫ টাকা ৮,৬২৫ টাকা
৪৮ পৃষ্ঠা - ১০ বছর ৫,৭৫০ টাকা ৮,০৫০ টাকা ১০,৩৫০ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা - ৫ বছর ৬,৩২৫ টাকা ৮,৬২৫ টাকা ১২,০৭৫ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা - ১০ বছর ৮,০৫০ টাকা ১০,৩৫০ টাকা ১৩,৮০০ টাকা

উপরের টেবিল থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, পাসপোর্টের ডেলিভারি সময় এবং পৃষ্ঠা সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে খরচের ভিন্নতা রয়েছে। আপনি যদি খুব তাড়াহুড়ো না থাকে তবে সাধারণ ক্যাটাগরিতে আবেদন করা সাশ্রয়ী হবে। মনে রাখবেন, এখানে উল্লেখ করা সকল ফির মধ্যে ১৫% ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি ছুটির দিন বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো এই কার্যদিবসের অন্তর্ভুক্ত নয়। অতি জরুরি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে সাধারণত আগে থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশন করা থাকলে সুবিধা পাওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ brta gov bd ড্রাইভিং লাইসেন্স online


পাসপোর্ট কী এবং কেন প্রয়োজন

পাসপোর্ট হলো একটি দেশের সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি আন্তর্জাতিক পরিচয়পত্র। এটি প্রমাণ করে যে আপনি ওই দেশের একজন বৈধ নাগরিক। দেশের সীমানা পেরিয়ে অন্য কোনো রাষ্ট্রে প্রবেশ করতে চাইলে পাসপোর্টই হলো আপনার প্রধান পরিচয়। বিশেষ করে ই-পাসপোর্ট আসার পর এতে একটি ইলেকট্রনিক চিপ যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এটি আপনার নিরাপত্তার পাশাপাশি বিমানবন্দরে ই-গেট ব্যবহারের সুবিধা প্রদান করে, যা আপনার ভ্রমণকে অনেক বেশি সহজ এবং দ্রুততর করে তোলে।

পাসপোর্ট শুধুমাত্র ভ্রমণের জন্যই নয়, বরং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক লেনদেন, উচ্চশিক্ষার স্কলারশিপ আবেদন বা বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রেও বাধ্যতামূলক। বর্তমানে বাংলাদেশে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (MRP) বদলে ই-পাসপোর্ট ব্যাপকভাবে প্রচলিত। আপনার যদি বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা নাও থাকে, তবুও একটি পাসপোর্ট করে রাখা ভালো কারণ এটি একটি শক্তিশালী জাতীয় পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে যাদের এনআইডি কার্ডে সমস্যা আছে, তারা অনেক ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেন। তবে এনআইডি কার্ডে বড় কোনো ভুল থাকলে আগে এনআইডি সংশোধন করে নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশে পাসপোর্ট করার নিয়মাবলী ২০২৬

২০২৬ সালে বাংলাদেশে পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়াটি মূলত কয়েকটি ধাপে বিভক্ত। সরকার পুরো প্রক্রিয়াটিকে ডিজিটাল করার ফলে এখন আপনাকে ফরম কেনার জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। আপনি নিজের সুবিধামতো সময়ে অনলাইনে ফরম পূরণ করতে পারবেন। তবে প্রতিটি ধাপ খুব সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করতে হয় কারণ একটি ছোট ভুল আপনার পাসপোর্টের কাজ অনেক পিছিয়ে দিতে পারে। নিচে আমরা ধাপে ধাপে পুরো বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করছি।

আরো পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে চেক করার নিয়ম

Step 1 – অনলাইন আবেদন

পাসপোর্ট করার প্রথম ধাপ হলো বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট অনলাইন পোর্টালে গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করা। এরপর আপনার ব্যক্তিগত তথ্য যেমন—নাম, পিতামাতার নাম, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং পেশা সঠিকভাবে প্রদান করতে হবে। অনলাইন আবেদন করার সময় খেয়াল রাখবেন যেন বানান ভুল না হয়। আপনার এনআইডি কার্ডে যেভাবে তথ্য দেওয়া আছে, ঠিক সেভাবেই ফরমটি পূরণ করুন। আবেদন শেষে আপনাকে একটি রেজিস্ট্রেশন সামারি এবং অ্যাপ্লিকেশন ফরম ডাউনলোড করতে হবে, যা পরবর্তীতে পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হবে।

Step 2 – প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট

আবেদনের পর আপনাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে নিতে হবে। সাধারণত ই-পাসপোর্টের জন্য আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) মূল কপি এবং ফটোকপি প্রয়োজন হয়। যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে, তাদের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি এবং পিতামাতার এনআইডি কপি বাধ্যতামূলক। এছাড়া সরকারি চাকুরিজীবী হলে এনওসি (NOC) বা জিও (GO) প্রয়োজন হবে। বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ বিল বা গ্যাস বিলের কপি সাথে রাখা ভালো। মনে রাখবেন, কোনো ভুল বা ভুয়া ডকুমেন্ট দিলে আপনার আবেদনটি আইনি জটিলতায় পড়তে পারে।

Step 3 – ফি জমা

পাসপোর্টের ফি আপনি অনলাইনে বা ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে পারেন। বর্তমানে এ-চালান বা বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং যেমন—বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে খুব সহজেই পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করা যায়। এছাড়া সোনালী ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক বা ট্রাস্ট ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখায় গিয়েও টাকা জমা দেওয়া সম্ভব। টাকা জমা দেওয়ার পর প্রাপ্ত রশিদটি যত্ন করে রাখুন, কারণ এটি পাসপোর্ট অফিসে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রধান প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।

Step 4 – বায়োমেট্রিক ও ছবি তোলা

অনলাইন ফরম পূরণ এবং ফি জমা দেওয়া হয়ে গেলে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট দিনে পাসপোর্ট অফিসে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে আপনার আঙুলের ছাপ (Biometric), চোখের মণি স্ক্যান এবং ছবি তোলা হবে। এই ধাপটি সম্পন্ন করার সময় চেষ্টা করবেন মার্জিত পোশাক পরার। পাসপোর্ট অফিসে ভিড় এড়াতে সকাল সকাল চলে যাওয়া ভালো। আপনার তথ্য যাচাই শেষে তারা আপনাকে একটি ডেলিভারি স্লিপ দেবে, যা দিয়ে পরবর্তীতে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।

Step 5 – পুলিশ ভেরিফিকেশন

নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সাধারণত আবেদনের কয়েক দিনের মধ্যে আপনার প্রদানকৃত বর্তমান ঠিকানায় সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ অফিসার যোগাযোগ করবেন। তিনি আপনার স্থায়ী এবং বর্তমান ঠিকানা যাচাই করবেন এবং আপনার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড আছে কিনা তা খতিয়ে দেখবেন। ভেরিফিকেশন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ তাদের রিপোর্ট পাসপোর্ট অফিসে পাঠিয়ে দেবে। আপনার যদি আগে থেকেই পাসপোর্ট থাকে এবং তথ্যের কোনো পরিবর্তন না থাকে, তবে অনেক ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হয় না।

Step 6 – পাসপোর্ট সংগ্রহ

সবশেষে, আপনার পাসপোর্ট প্রিন্ট হয়ে গেলে আপনার মোবাইলে একটি এসএমএস আসবে। এসএমএস পাওয়ার পর আপনি আপনার ডেলিভারি স্লিপ নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে পাসপোর্টটি সংগ্রহ করতে পারবেন। পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর অবশ্যই আপনার নাম, জন্ম তারিখ এবং অন্যান্য তথ্য ঠিক আছে কিনা তা ভালো করে চেক করে নেবেন। যদি কোনো ভুল থাকে, তবে দ্রুত অফিস কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এভাবেই আপনি সফলভাবে আপনার পাসপোর্ট হাতে পেতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ অনলাইনে ট্রেনের টিকিট ক্রয় | Railway Online Ticket BD Guide

পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে বাংলাদেশ ২০২৬

পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে তা নির্ভর করে পাসপোর্টের মেয়াদ এবং পৃষ্ঠার সংখ্যার ওপর। ২০২৬ সালের আপডেট রেট অনুযায়ী, আপনি যদি ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট করেন তবে খরচ পড়বে ৪,০২৫ টাকা। কিন্তু একই পৃষ্ঠা সংখ্যার পাসপোর্টের মেয়াদ যদি ১০ বছর করতে চান, তবে ৫,৭৫০ টাকা ফি দিতে হবে। যারা নিয়মিত ভ্রমণ করেন তাদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট উপযুক্ত। এই ক্ষেত্রে ৫ বছর মেয়াদী সাধারণ ফি ৬,৩২৫ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদী সাধারণ ফি ৮,০৫০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য ‘এক্সপ্রেস’ এবং ‘সুপার এক্সপ্রেস’ সুবিধা চালু আছে। ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের সুপার এক্সপ্রেস ফি ৮,৬২৫ টাকা হলেও ৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের জন্য এই ফি ১৩,৮০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। মনে রাখতে হবে, এই ফির মধ্যে ১৫% ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকে। অনেক সময় দালালেরা অতিরিক্ত টাকা দাবি করতে পারে, কিন্তু সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে এক টাকাও বাড়তি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সঠিক নিয়ম জানলে আপনি নিজে নিজেই এই খরচ মেটাতে পারেন।

সাধারণ সমস্যা ও সমাধান

পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়ায় অনেক সময় আবেদনকারীরা বিভিন্ন সমস্যায় পড়েন। এর মধ্যে পুলিশ ভেরিফিকেশন দেরি হওয়া বা অনলাইন স্ট্যাটাস চেক করতে গিয়ে বিভ্রান্ত হওয়া অন্যতম। তবে অধিকাংশ সমস্যাই সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য।

পুলিশ ভেরিফিকেশন দেরি

অনেক সময় দেখা যায় পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এমনটি হলে আপনি আপনার নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আপনার এলাকার স্পেশাল ব্রাঞ্চ (SB) অফিসে খোঁজ নিতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে ফোন নম্বর ভুল থাকার কারণে পুলিশ আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে না।

SMS বা স্ট্যাটাস সমস্যা

আবেদন করার পর অনেকেই মোবাইলে এসএমএস পান না। এক্ষেত্রে আপনি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে গিয়ে আপনার অ্যাপ্লিকেশন আইডি দিয়ে স্ট্যাটাস চেক করতে পারেন। যদি দেখেন স্ট্যাটাস 'Pending Police Investigation' বা 'Processing' অবস্থায় আছে, তবে চিন্তার কিছু নেই। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

অনলাইন ফরমে ভুল

যদি অনলাইন সাবমিট করার পর দেখেন ফরমে ভুল হয়েছে, তবে ঘাবড়াবেন না। পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ছবি তোলার আগে দায়িত্বরত অফিসারকে বললে তিনি আপনার তথ্য সংশোধন করে দিতে পারেন। তবে ফরম প্রিন্ট করার আগে কয়েকবার চেক করে নেওয়া সবচেয়ে ভালো। মনে রাখবেন, একবার বায়োমেট্রিক হয়ে গেলে তথ্য পরিবর্তন করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

FAQ (প্রশ্নোত্তর)

পাসপোর্ট করতে বয়স কত লাগবে?

পাসপোর্ট করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা নেই। একজন নবজাতক শিশু থেকে শুরু করে যেকোনো বয়সের মানুষ পাসপোর্ট করতে পারেন। তবে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৫ বছর হয় এবং তাদের এনআইডি কার্ডের পরিবর্তে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ব্যবহার করতে হয়। ২০ বছর পূর্ণ হলে ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের আবেদন করা সম্ভব।

NID না থাকলে কি হবে?

আপনার যদি এনআইডি কার্ড না থাকে, তবে আপনি অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) দিয়ে পাসপোর্টের আবেদন করতে পারবেন। তবে ২০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এনআইডি কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক করার প্রক্রিয়া চলছে। তাই আপনার এনআইডি না থাকলে দ্রুত ভোটার হয়ে নেওয়া বা এনআইডি সংগ্রহ করা উচিত। এনআইডি ছাড়া পাসপোর্ট করলে পরবর্তীতে অনেক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

পাসপোর্টের মেয়াদ কত বছর?

বর্তমানে বাংলাদেশে দুই ধরণের মেয়াদের পাসপোর্ট পাওয়া যায়—৫ বছর এবং ১০ বছর। সাধারণত ১৮ বছরের নিচে এবং ৬৫ বছরের উপরে নাগরিকদের জন্য ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট দেওয়া হয়। অন্য সব সুস্থ নাগরিক ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন। ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের সুবিধা হলো আপনাকে বারবার রিনিউ করার ঝামেলা পোহাতে হবে না।

জরুরি পাসপোর্ট কি সবাই করতে পারে?

হ্যাঁ, যেকোনো নাগরিক জরুরি বা অতি জরুরি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে অতি জরুরি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ফি কিছুটা বেশি এবং আপনাকে নিজ দায়িত্বে পুলিশ ভেরিফিকেশন দ্রুত করার ব্যবস্থা করতে হতে পারে। যাদের দ্রুত বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন বা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তারা এই সুবিধা নিতে পারেন।

অনলাইন আবেদন ভুল হলে কি করবেন?

অনলাইন আবেদনে বড় কোনো ভুল থাকলে সেটি সাবমিট করার আগে ডিলিট করে নতুন করে করা যায়। কিন্তু ফি জমা দেওয়ার পর ভুল ধরা পড়লে আপনি পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ছবি তোলার সময় তথ্য সংশোধনের অনুরোধ করতে পারেন। এছাড়া আবেদনে বড় কোনো গরমিল থাকলে পাসপোর্টের কাজ আটকে যেতে পারে, তাই আবেদনের সময় সতর্ক থাকা জরুরি।

নোট: সরকারি নিয়ম ও ফি সময়ের সাথে পরিবর্তন হতে পারে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট যাচাই করুন।


শেষ কথা

পাসপোর্ট করার নিয়মাবলী ও খরচ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে পুরো বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে যায়। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিজের পাসপোর্ট নিজেই করা এখন সময়ের দাবি। মনে রাখবেন, পাসপোর্ট আপনার জাতীয় মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক পরিচয়ের বাহক। তাই সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করুন এবং কোনো অসাধু উপায়ের আশ্রয় নেবেন না। আশা করি আমাদের এই গাইডটি আপনাকে পাসপোর্ট তৈরির প্রতিটি ধাপে সাহায্য করবে।

পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আপনি আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ভিসা আবেদন গাইড অনুসরণ করে বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তুতি নিতে পারেন। আপনার যদি পাসপোর্ট সংক্রান্ত আরও কোনো প্রশ্ন থাকে বা কোনো সুনির্দিষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হন, তবে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমরা চেষ্টা করব আপনাকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সার্ভিস আইটির নিয়ম মেনে কমেন্ট করুন প্রত্যেকটা কমেন্টের রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Sanjid Ali
Md. Sanjid Ali
একজন ব্লগার/কন্টেন্ট লেখক। আধুনিক জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও জ্ঞান নিয়ে আমরা হাজির হয়েছি। এখানে আপনি অনলাইন ইনকামের নানা কৌশল, স্বাস্থ্য,চিকিৎসা, রুপচর্চা বর্তমান লাইফস্টাইল সম্পর্কিত টিপস, এবং প্রযুক্তি ও ব্লগিং-এর অজানা দিকগুলো জানতে পারবেন।